ইবির নিয়োগ বাণিজ্য: অভিযুক্ত ২ শিক্ষক বরখাস্ত, নিয়োগ বোর্ড স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বোর্ড আবারও স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই বিভাগের নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে শুক্রবার যুগান্তরে ‘এবার ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি, অগ্রিম ১০’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিষয়টি আমলে নিয়ে এদিন বেলা ১১টার দিকে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত দুই শিক্ষক ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিন ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এসএম আবদুর রহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হল।

এর আগে ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল যুগান্তরে ‘থ্রি ফার্স্ট ক্লাসে ১৫, ফোরে ১২ লাখ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বোর্ড স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। তখনও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এই রুহুল আমিন।

এরপর ২০১৮ সালের ১০ জুলাই আবারও সেই বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ডের সভার তারিখ নির্ধারণ হয়। কিন্তু আগের দিন ৯ জুলাই যুগান্তরে ‘তদন্ত ছাড়াই বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নিয়োগ বোর্ডের ওই সভাও স্থগিত হয়।

নিয়োগ বাণিজ্যে ওই দুই শিক্ষকের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এসএম আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আজ সিন্ডিকেটে বিষয়টি উপস্থাপন করে তদন্ত কমিটি করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শক্তিশালী তদন্ত কমিটি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সমিতি। সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন ও সম্পাদক প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমি রেকর্ড শুনেছি। প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ায় তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নৈতিক অবক্ষয়সম্পন্ন কারোই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাঁই হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স অব্যাহত আছে, থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়েছে একই অপরাধে এর আগে যাদের শাস্তি হয়েছে (পদাবনতি) সেটি কম হয়েছে। আমি আরও কঠোর হচ্ছি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করা হবে। অভিযুক্তরা কিভাবে নিয়োগ পেয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখার জন্য কমিটিকে সুপারিশ করব। আমি সমূলে দুর্নীতি দমন করতে চাই।

দেন-দরবারের আরও ৬টি অডিও ফাঁস : ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ নিয়ে প্রার্থীর সঙ্গে দেন-দরবারের আরও ৬টি অডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যেগুলো যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

এসব অডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন ও আবদুর রহিম নিয়োগপ্রার্থী আরিফ হোসেনের সঙ্গে দেন-দরবার ও টাকা কোথায় কিভাবে আদান-প্রদান করতে হবে সে বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে।