ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্যামসাং ও এলজি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন এক মীমাংসিত ঘটনায় সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের রুল জারির পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এর অংশ হিসেবে ৪ জুলাই থেকে স্মার্টফোন ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহূত মূল্যবান কাঁচামাল দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করবে দেশটি। 

বিরোধের সূত্রপাত মূলত গত বছরের অক্টোবরে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট জাপানের নিপ্পন স্টিল কোম্পানির প্রতি একটি রুল জারি করেন। ১৯১০-৪৫ সালে ঔপনিবেশিক আইনের আওতায় কোরিয়ার নাগরিকদের বাধ্যতামূলক শ্রমের বিধান করেছিল জাপান। ১৯৬৫ সালে দুই দেশ বিষয়টি ফয়সালা করে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল করে। কিন্তু হঠাৎ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করে নিপ্পন স্টিলকে সেই ‘শ্রমিক নির্যাতনের’ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের এ আদেশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে জাপান সরকার। এ নিয়ে কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনারও প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু অন্য পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

জানা গেছে, স্মার্টফোন ও টেলিভিশনের ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহূত ফ্লুরিনেটেড পলিমাইড ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহূত বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন ফ্লুরাইড গ্যাস (ইচিং গ্যাস) ও রেসিস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান।

জাপানের সাংকেই পত্রিকা জানিয়েছে, এ তিনটি কাঁচামাল দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানির ক্ষেত্রে আর অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেবে না জাপান। তার মানে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রত্যেকবার রফতানিতে সরকারের অনুমোদন লাগবে। আর এ অনুমোদন পেতে ৯০ দিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। আজকেই এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

বিশ্ববাজারে প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় ফ্লুরিনেটেড পলিমাইড ও রেসিস্টের ৯০ শতাংশ এবং ইচিং গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশই উৎপাদন করে জাপান। এসব কাঁচামালের জন্য জাপানকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করে বিকল্প উৎপাদক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে। ফলে টোকিওর সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এলজি ইলেকট্রনিকস বেশ বিপাকে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে জি২০ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনার মধ্যে হুয়াওয়ে ইস্যুতে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে জাপান-কোরিয়া বিরোধ শুরু হলো। কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে প্রযুক্তি শিল্পের কাঁচামাল নিয়ে দুই দেশের এ টানাপড়েন সারা বিশ্বেই বিশেষ করে ডিসপ্লে ও সেমিকন্ডাক্টর বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল জাপানের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী হং নাম কি পাল্টা ব্যবস্থা নিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বলে জানা গেছে। বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এর কড়া জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

কোরিয়া সরকার বলছে, জাপানের এ পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধানের পরিপন্থী। বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানিমন্ত্রী সুং উন মো বলেছেন, এ নিয়ে ডব্লিউটিওতে জাপানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হবে।

গতকাল জাপানের রফতানি বিধিনিষেধ বিষয়ে ঘোষণার পর পরই কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা পাক তায়ে সুং সাংবাদিকদের বলেন, জাপানের রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও রফতানিতে কেমন প্রভাব পড়বে, তা গভীরভাবে যাচাই করা হবে।

সহকারী বাণিজ্যমন্ত্রী চেয়ং সুং ইল দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর  ও ডিসপ্লে প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। শিগগিরই তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।