২ লাখ টন সেদ্ধ চাল রফতানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশ থেকে চাল রফতানির সুযোগ অবারিত নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে শর্তসাপেক্ষে শুধু সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি রয়েছে। তবে কৃষক ও সময়ের প্রয়োজনে চাল রফতানির সুযোগ দেয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন চালের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তরা। আবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও চাল রফতানির অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টন সেদ্ধ চাল রফতানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে সব ধরনের চাল রফতানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকাভুক্ত। কিন্তু সুগন্ধি চাল শর্তসাপেক্ষে রফতানি পণ্য, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমান অর্থবছরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত। এ অবস্থায় কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চাল রফতানির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয় গত ২ জুলাই।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুলাই চাল বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সভায় কৃষকের ন্যায্য মূল্য ও আন্তর্জাতিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চাল রফতানির সুযোগ দেয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি চালের আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান, মূল্য যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকির দাবিও জানান তারা।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ১১ জুলাই চাল রফতানির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেদ্ধ চাল রফতানি অনুমতিবিষয়ক এ-সংক্রান্ত চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের স্মারক ও রফতানি নীতি ২০১৮-২১-এর অনুচ্ছেদ ৩ দশমিক ৩ অনুসরণে এবং গত ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রথমেই বলা হয়েছে, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টন সেদ্ধ চাল রফতানি করা যেতে পারে। দ্বিতীয় ও সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, একজন রফতানিকারককে একক আবেদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টন চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হবে। ওই পরিমাণ চাল রফতানি শেষে তিনি আবার চাল রফতানির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো ওই চিঠিটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ১১টি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরু চাল রফতানির অবারিত সুযোগ এখন দেয়া প্রয়োজন। কৃষকের ন্যায্য মূল্য পরিশোধসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধ চাল রফতানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে চালের আন্তর্জাতিক বাজার আরো অনুসন্ধানসহ মূল্য যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীরা অবারিত সুযোগ চাইলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও চালের মতো স্পর্শকাতর পণ্য বিবেচনায় নিয়ে রফতানির সীমা ও সময় বেঁধে দিয়েছেন সরকারের প্রতিনিধিরা।