ঘোষণা ছাড়াই বাড়ছে-কমছে মালিকদের শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা ঘোষণা ছাড়া শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেন না। এ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বিনা ঘোষণায় তাদের শেয়ার লেনদেন বন্ধ নিশ্চিত করতে ব্লক মডিউল করা হয়েছে। এ কারণে ঘোষণা না থাকলে তাদের শেয়ার কমা বা বৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়। তবুও প্রতি মাসেই এমন ঘটনা ঘটছে। এতে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত জুনেও ২৮ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণে পরিবর্তন হয়েছে বিনা ঘোষণায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকের বেনামে শেয়ার কেনাবেচা এখন অনেকটা 'ওপেন-সিক্রেট'। তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া যদিও সহজ নয়। তবে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা নিজ নামে ঘোষণা ছাড়া অর্থাৎ বেআইনিভাবে শেয়ার কেনাবেচা করলে তা ধরা সম্ভব। এমন ক্ষেত্রে তথ্য পেলেও এখন পর্যন্ত তা খতিয়ে দেখেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বা দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই বা সিএসই।

এর আগে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের গোপনে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিএসইসির নির্দেশে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল গত মে মাসে ইলেট্রনিক ব্যবস্থায় শেয়ার ব্লকের মডিউল তৈরি করেছে। তারপর সব কোম্পানিকে এ ব্যবস্থায় মালিকপক্ষের শেয়ার ব্লক করতে নির্দেশও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরপরও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার হ্রাস-বৃদ্ধির ব্যাখ্যা মিলছে না।

জুন শেষে তালিকাভুক্ত ৩১৭ কোম্পানির মধ্যে ৩০৭টির প্রকাশ করা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত মাসে ৩৬ কোম্পানির শেয়ার ধারণের হারে পরিবর্তন এসেছে। এগুলোর মধ্যে ঘোষণা ছাড়াই অন্তত ২৮ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণের হার বেড়েছে বা কমেছে।

এর মধ্যে এপেক্স ফুডের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণের হার বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। মে মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ২৫ দশমিক ৪৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮২ হাজার। কিন্তু গত জুনে-তো নই, সর্বশেষ দুই মাসেও কোম্পানিটির মালিকপক্ষের কোনো শেয়ার কেনার ঘোষণা ছিল না। এ বিষয়ে একাধিক দিন যোগাযোগ করেও কোম্পানির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আবার বীমা খাতের কোম্পানি ডেল্টা লাইফের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কোনো শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তরের ঘোষণা না থাকলেও মে মাসের তুলনায় জুনে এসে তাদের সম্মিলিত শেয়ারের পরিমাণ পৌনে ৯ শতাংশ কমে ৩৩ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। এ কোম্পানি থেকে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কমেছে এক কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার।

ডেল্টা লাইফের কোম্পানি সচিব উত্তম কুমার সমকালকে জানিয়েছেন, গত মাসে তাদের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা কোনো শেয়ার কেনাবেচা করেননি। আইনি বিধান অনুসরণ করে উদ্যোক্তাদের তালিকা সংশোধন করায় এ পরিবর্তন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কিছু উদ্যোক্তা অনেক আগে তাদের শেয়ার বিক্রি করেন। আগের আইন অনুযায়ী যারা ওই শেয়ার কিনেছিলেন, তাদের এতদিন উদ্যোক্তা ধরা হয়েছিল। গত জুনে তা সংশোধন করা হয়েছে।

একইভাবে শমরিতা হাসপাতালের ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংকের ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মাইডাস ফাইন্যান্সে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তথ্য দিয়েছে।

উত্তরা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, পরিচালক পদে থাকতে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার না থাকায় গত মাসে একাধিক পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে এককভাবে ২ শতাংশের বেশি (মোট ৫ শতাংশ বা প্রায় দেড় কোটি শেয়ার) শেয়ার কেনে ওয়েলথ ম্যাক্স ও ব্লু স্কাই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নামের দুটি কোম্পানি মালিকানায় এসেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি দু'জনকে পরিচালক পদে মনোনীত করেছে। এ তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পাঠানো হয়েছে। এখন স্টক এক্সচেঞ্জ তা প্রকাশ না করলে তার দায় ব্যাংকের নয়।

ডিএসইর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, শেয়ার কেনাবেচা ছাড়াও কোম্পানিতে নতুন পরিচালক যোগ দিলে বা বিদ্যমান পরিচালকদের কেউ পদত্যাগ করলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বাড়তে বা কমতে পারে। এমন তথ্যও প্রকাশ করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে করে বুঝতে পারেন কেন উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বাড়ছে বা কমছে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।