আকাশে রাশিয়া-চীনের যুদ্ধবিমান, দক্ষিণ কোরিয়ার গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আকাশসীমা লঙ্ঘন করা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া আর চীনের মধ্যে বেশ রেষারেষি দেখা হয়েছে। রাশিয়া এবং চীনের যুদ্ধবিমান আকাশসীমা পেরিয়েছে দাবি করে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে রাশিয়া এবং চীনের ওই অবস্থানের পর দক্ষিণ কোরিয়াও পাল্টা জবাবে দেয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাশিয়া এবং চীনের পাঁচটি যুদ্ধবিমান তাদের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে সকাল ৯টার দিকে। এর প্রতিক্রিয়ায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উড়িয়ে গুলি চালিয়েছে কোরীয় বিমান বাহিনী।

কোরীয় সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের ডোকডো দ্বীপের আকাশে একটি রুশ সামরিক এ-৫০ বিমান উপর্যুপরি দুই দুইবার ঢুকে পড়ার পর সেটিকে তাড়াতে তাদের বিমান বাহিনীর এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। সে সময় বিমান থেকে দুই দফায় ৩৬০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

প্রথমবার ৮০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর রুশ বিমানটি সরে গেলেও আবারও ফিরে আসে। তখন নতুন করে ২৮০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান চুং ইউ-ইয়ং রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে কড়া প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে এক বিবৃতিতে চুংকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আমরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসাবে বিবেচনা করছি। আবার এ ধরনের লঙ্ঘন হলে, আমরা আরো কড়া ব্যবস্থা নেব।

ডোকডো নামের ছোটো এই দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দখলে, কিন্তু জাপান দাবি করে এটি তাদের। জাপানে দ্বীপটি তাকেশিমা নামে পরিচিত।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হঠাৎ হঠাৎ চীন এবং রাশিয়ার সামরিক পর্যবেক্ষণ বিমান বিতর্কিত এই দ্বীপটির আকাশসীমায় দেখা গেছে। তবে একে কেন্দ্র করে এই ধরনের উত্তেজনা এই প্রথম। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার মধ্যে এ ধরনের উত্তেজনার ঘটনা এই প্রথম।

গত বছর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি প্রথমবারের মত রাশিয়ার সাথে ভোস্টক নামে ব্যাপক একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। এখন আবার এই দুই দেশ মিলে কোরীয় উপদ্বীপের আকাশে বিমান মহড়া করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক গত ৫০ বছর ধরে অত্যন্ত নাজুক। সীমান্তে কার্যত যুদ্ধাবস্থা চলছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন সেনার উপস্থিতি, আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি চীন এবং রাশিয়া কখনই পছন্দ করেনা। সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হয়েছে জাপানের সাথে মনোমালিন্য।