রাজশাহীতে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে জমতে শুরু করেছে পশুরহাট। তবে বেচাকেনা সেভাবে জমেনি। খামারী ও কৃষকরা বিভিন্ন পশুরহাটে যাচ্ছেন কোরবানির গরু-ছাগল নিয়ে। ভারতীয় গরু নিয়েও হাটে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রাজশাহীর পশুরহাটে ভারতীয় গরুর আমদানি এখনো কম। তবে ভারতীয় মহিষের আমদানি মোটামুটি। পশুরহাটগুলো জমিয়ে তুলতে ইজারাদাররা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহীতে কুরবানির পশুরহাটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নগরীর সিটিহাট, নগরীর উপকণ্ঠ নওহাটা ও কাঁটাখালি, গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি ও কাঁকনহাট, বাগমারার মচমইল, মোহনপুরের কেশরহাট এবং পুঠিয়ার বানেশ্বরসহ ১০টি পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটের মধ্যে আয়তন ও বেচাকেনায় নগরীর সিটিহাট সব চেয়ে বড়।

বুধবার সিটি হাটে দেখা যায়, গরু, মহিষ ও ছাগলের নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। এবার কুরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। সেদিকে খেয়াল রেখেই হাটে পশু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে পশু আসতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতারা দলবেঁধে আসেনি। তবে যারা কিনতে আসছেন তারে শুরুতে দাম একটু বেশি বলে জানিয়েছেন। ওইদিন সিটিহাটে নওগাঁ থেকে গরু নিয়ে আসা মছিদুল ইসলাম ৩৫টি গরু নিয়ে আসেন। প্রতিটির দাম হাকেন ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে ৮৫ হাজার পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারও কুরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। রাজশাহীতে এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার বেশি কুরবানির পশু থাকায় দাম নাগালের মধ্যে থাকবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে এবারও রাজশাহীর খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে গবাদিপশু লালন পালন করা হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় এবার খামারীদের খরচ একটু বেশি পড়ছে। ফলে গতবারের তুলনায় এবার গরু-ছাগলের দাম একটু বেশি পড়বে বলেও জানান তারা।

গতবছর রাজশাহীতে চাহিদার চেয়ে কুরবানির পশুর পরিমাণ বেশি ছিল। যে কারণে শেষের দিকে এসে অনেক খামারীকে লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করতে হয়েছে। এরকম বেশকিছু খামারী লোকসানের কারণে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। যারা অধিক খরচ করে খামার টিকিয়ে রেখেছেন, তারা এবার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কিনা এ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। রাজশাহীতে কুরবানির বড় পশুহাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর সিটিহাট, নওহাটা, কাটাখালি, মহিষালবাড়ি, কাকনহাট, মচমইল, কেশরহাট ও বানেশ্বর হাট।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় সিটিহাটের গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, মাংসের বাজার হিসাবে কোরবানির গরুর দাম এখনো কমই রয়েছে। তারা বলেন, ছোট আকৃতির গরু এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরুর দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এবং বড় গরু ৯০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, কয়েক মাস হলো ভারত থেকে গরু আসছে কম। বর্তমানে ঈদ উপলক্ষে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকে কোরবানির গরু আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও দাঁতালো (কোরবানির উপযোগী) গরুর সংখ্যা কম। ফলে বেচাকেনা শুরু হলেও জমে ওঠেনি। বেশিরভাগ ক্রেতা হাটে এসে দরদাম হাঁকিয়ে কোরবানির বাজার বোঝার চেষ্টা করছেন। যাদের বাসায় গরু রাখার জায়গা আছে, কেবল তারাই এখন দামে সুবিধা হলে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সিটি হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিটিহাটে পশু চিকিৎসকও রয়েছেন। এছাড়া হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্যও মেশিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অন্তিম কুমার সরকার জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ১৭ হাজার ৭শ খামার রয়েছে। যেখানে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৪ কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ৭৮ হাজার ১৩, মহিষ দুই হাজার ১৭৫, ছাগল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫। রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮২৪ টি। এরমধ্যে গরু ৫৮ হাজার ৬১৩ টি, ছাগল ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০ টি, ভেড়া ১২ হাজার ৫শ’ ও মহিশ ২ হাজার। এখানে পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫০টি। ফলে এখানে কোরবানির জন্য বাইরের পশুর প্রয়োজন হবেনা। গতবছর এখানে ৩ লাখের কিছু কম পশু কোরবানি হয়েছে। এবারও এখানে স্থানীয় খামারের পশু দিয়েই তা করা যাবে বলে জানান তিনি।