বিদেশিনীর হাতে ধরে সাফল্যের চাবি পান জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ইন্দোনেশিয়ার তরুণী বাউফলে, ফরিদপুরে আমেরিকার মেয়ে, ফুলবাড়ীতে ফিলিপাইনের তরুণী, মালয়েশিয়ার তরুণী টাঙ্গাইলে, ভারতীয় তরুণী কুষ্টিয়ায়, সিলেটে ব্রাজিলের তরুণী, থাইকন্যা নাটোরে এবং মার্কিন নারী লক্ষ্মীপুরে -এগুলো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম। এমন চমকপ্রদ শিরোনামে একবারের জন্যে হলেও চোখ বুলিয়ে নেন যেকোনো পাঠক। বিস্তারিত সংবাদ পড়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- বাঙালি ছেলেদের বুকে কত প্রেম? এই প্রেমের গোপন সূত্র ও শক্তিটাইবা কোথায়!

লোকমুখে প্রচার আছে- যারা প্রেম করে তারা ভয় পায় না, আর যারা ভয় পায় তাদের প্রেমে শুদ্ধতা থাকে না। প্রেমই এক অকৃত্রিম শক্তি তৈরি করে দেয় বহু যুবকের হৃদয়ে। সচরাচর প্রেম বা প্রেম ঘটিত বিয়ে খুব স্বাভাবিক ধারায় নেমে এসেছে। কিন্তু এখনো সর্বত্র তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকে যদি সেই প্রেম বা বিয়ের ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকে কোনো বিদেশিনী। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী জাহিদ হোসেনের জীবনের গল্প এমনই রং দিয়ে আঁকা। যেখানে বিদেশিনীর হাত আছে, আছে সেই হাতেই সফলতার চাবি। ধর্ম ও নাম পরিবর্তন করা সেই বিদেশিনীকে নিয়ে জাহিদের এখন সুখী পরিবার।

জাহিদ হোসেন চট্টগ্রাম জেলার পূর্ব মাদারবাড়ীর বাসিন্দা। জন্ম ১৯৬৬ সালে। বাবা মরহুম এম জানে আলম সওদাগর ও মা রিজিয়া বেগম। চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি সপ্তম। সপ্তমকে সাধারণত ‘লাকি সেভেন’ বলা হয়। সেই দিক থেকে জাহিদ হোসেনও ভাগ্যবান একজন ব্যক্তি। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে।

১৯৯০ সালে একজন আত্মীয়ের দেয়া ভিসা নিয়ে জাহিদ হোসেন চলে আসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। প্রথমে ইউনাইটেড ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর একটি শো রুমে ইনচার্জ হিসেবে কাজ করেন টানা পাঁচ বছর। সেই সুবাদে রাশিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, মস্কো, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, বাকু ভ্রমণের সুযোগ হয় তার। কর্মস্থলের সূত্রেই পরিচয় হয় চাইনিজ তরুণী নাইলার সঙ্গে। দুজন মিলে চালু করেন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

নাইলা’র আমিরাতে আগমন ১৯৯৭ সালে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের এয়ারহোস্টেস তার বোন লি ইয়াং সু এর হাত ধরে দুবাই আসেন তিনি। নাইলা’র প্রকৃত নাম লি ওয়াং সুহাং। জাহিদ হোসেনের সঙ্গে পরিচয়ের সময় দীর্ঘায়িত হলে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। প্রেম একসময় পরিণয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সেই সম্পর্ক পাকাপোক্ত করতে ২০০৫ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর আগেই লি ওয়াং সুহাং নিজের নাম পরিবর্তন করে নেন। পরিবর্তন করেন নিজের ধর্মও। এ যেন ভাগ্যের চাবি দিয়ে সাফল্যের দরজা খোলা হলো।

এরমধ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসা ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে থাকে। মজবুত হয় তাদের বন্ধনও। দুজনের পার্টনারে দুবাইয়ের দেরা টু ইন টাওয়ারে চালু করেন একটি রেস্টুরেন্ট। এরপর দুবাইয়ের কারামায় দুটি সেলুন সার্ভিসও চালু হয় তাদের। একটি লেডিস অন্যটি জেন্টস। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ২০ বছরের মত ব্যবসায় জড়িত তারা। তবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় দারুণ সাফল্য এসেছে তাদের। নেক্স-টু, রেডিসন ব্লু-তে আছে তাদের আরো দুটি রেস্টুরেন্ট।

জাহিদ জানান, রেস্টুরেন্ট হচ্ছে তাদের শখ। তার আত্মবিশ্বাস এই ব্যবসা তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।

জাহিদের ভাষ্য মতে, ‘দুজনের সম্পর্কই আমাদের সাফল্যের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে সহায়তা করছে। দাম্পত্য জীবনে সুখী আমরা। আমাদের পরিবারে রয়েছে একটি মাত্র কন্যা সন্তান। নাম লি হানা। আবার বাংলায় তাকে হানা হোসেন ডাকা হয়। হানা দুবাইয়ের আমেরিকান স্কুলে গ্রেট নাইন এ পড়ছে।’

জাহিদ-নাইলা’র এই জুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও বাংলাদেশকে দারুণভাবে হৃদয়ে ধারণ করেন। একইসঙ্গে তারা অসহায় দুস্থ প্রবাসীদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন নানা সময়।