লজ্জা শরম না থাকলে মানুষ হয় নির্লজ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

লজ্জা কি? তাকে দেখতে কেমন? আছে কি বয়স সীমা লজ্জায়? আমরা কখন লজ্জা পাই এবং কেনই বা লজ্জা পাই? লজ্জা কত প্রকার এবং কিভাবে তাকে দেখা সম্ভব? যদি বলি নারীর লজ্জা শরম, অনেকে মনে করবে সে আবার কি? চলুন জেনে নেই কিছু তথ্য।

 

শরম হতে পারে দুই প্রকার যেমন ১।( shame ) কলঙ্কিত করা, কলঙ্ক, অপমান, গ্লানি, লজ্জা, শরম, ত্রপা, অপমান করা, লজ্জিত করান, লজ্জা দেয়া, অমর্যাদা। ২।(modesty) সংযম, আবরূ, ভদ্রতা, বিনয়, বিনতি, বিনম্রতা, শ্লীলতা, নম্রতা, শালীনতা, লজ্জা, শরম, পবিত্রতা, অমায়িকতা, শিষ্টতা, সুশীলতা, সচ্চরিত্রতা, লাজুকতা, নিরহঙ্করতা, পরিমিত মাত্রা।

লজ্জা শরম কি দেখা যায়? সরাসরি দেখা যায় না তবে যারা লজ্জা শরমে ভুক্তভোগী হয়েছে তাদের চেহারায় বেশ ফুটে ওঠে লজ্জা দেখতে কেমন। যেমন আজ দেখলাম দুটো ছবি ফেসবুকে। একটি ঘুষখোর ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক এবং অন্যটি তার স্ত্রী। দুজনকে দেখে মনে হলো লজ্জাকে দেখলাম।

ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক ঘুষখোর পার্থ বলে পরিচিত হয়েছে। তার ডিআইজি পদবীর আগে ঘুষখোর শব্দটি যোগ হয়েছ। যা অতীতে ছিলো না। ঘুষখোর ডিআইজি, এ নতুন পদবীটি কি তার পদোন্নতি না কি অবনতি? যাই হোক না কেন, একটি বিষয় পরিস্কার যে সে মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এখন একটি বিষয় পরিস্কার হওয়া দরকার তা হলো ঘুষ কেনাবেচা বা দেয়া-নেয়ার মতো একটি মাধ্যম তা ভুলে গেলে চলবে না।

যেহেতু ঘুষ চলছে দেদারছে, সেহেতু বলা যেতে পারে পুরো জাতি এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। ডিআইজি কারো টাকা ছিনতাই করেনি, লুট করেনি, হাইজাক করেনি বা ডাকাতি করেনি। তাকে কোন কিছুর বিনিময়ে ঘুষ দেয়া হয়েছে। হয়তো তার ক্ষমতার বিনিময়ে সে কিছু কেনা-বেচা করেছে। যেমন সমাজের একজন দুর্বল, অসহায় নাগরিকের জীবনকে সারাজীবনের জন্য শেষ করে আরেকজন ক্রিমিনালকে বাঁচিয়েছে ডিআইজির ক্ষমতা দিয়ে।

মানুষ লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হয়, প্রকৌশলী হয়, শিক্ষাবিদ হয়, গবেষক হয়, বড় বড় নেতা হয়, হুজুর হয়, প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তা হয়। কারণ কি? কারণ দক্ষতা এবং ক্ষমতা অর্জন করা। শিক্ষার উদ্দেশ্য তাকে (শিক্ষাকে) ব্যবহার করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। যে যত প্রতিষ্ঠিত সে তত পারদর্শী। ক্ষমতাকেও ঠিক একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যার যত ক্ষমতা সে তত পারদর্শী। অতএব ডিআইজি তার ক্ষমতার ব্যবহার করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে উঠে পড়ে লেগেছে।

এবার আসা যাক একটি বাস্তব উদাহরণে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করছি যেমন কম্পিউটার। কম্পিউটারের দুটো অংশ রয়েছে, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। আমরা সাধারণত সফটওয়্যারের সঙ্গে পরিচিত এবং সহজভাবে তার ব্যবহার করি। যারা হার্ডওয়্যার নিয়ে কাজ করে তারা সারাক্ষণ চেষ্টা করে আমাদের দৈনন্দিন সফটওয়্যার ব্যবহারে যেন কোনো রকম অসুবিধা না হয়।

যেমন আমি ব্যাংকে টাকা রেখেছি, দিব্যি আমার ব্যক্তিগত কার্ড দিয়ে টাকা তুলছি, প্রয়োজনে টাকা ভরছি, কোন সমস্যা ছাড়া। সফটওয়্যার ঠিক মতো কাজ করছে। হঠাৎ যদি অন্য কেউ আমার ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে আমার টাকা পয়সা নিয়ে যায় তাহলে ধরতে হবে হার্ডওয়্যারে কোন সমস্যা হয়েছে যার কারণে এমনটি ঘটেছে। এখানে হার্ডওয়্যারের গড়মিলের কারণে সিস্টেমে ভুলত্রুটি দেখা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে সব কিছু তদন্ত করে ভুলত্রুটি সংশোধন করা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে আবার ভাইরাসের কারনেও কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দেয় এবং তার জন্যও রয়েছে সিস্টেম।

মজার ব্যাপার হলো কম্পিউটার মানুষেরই তৈরি। কম্পিউটারের মাধ্যমে সবকিছু চলছে, সমস্যা হচ্ছে, আবার তার সমাধানও হচ্ছে। তুলনা করলে দেখা যায় একজন মানুষ, একটি সমাজ, একটি দেশও কিন্তু জাস্ট একটি কম্পিউটারের মতো।

এখন আসা যাক আমাদের দৈনন্দিন শিক্ষায়। সবার মূল উদ্দেশ্য একটিই তা হলো লেখাপড়া শিখে টাকা কামাই করা আর বড়লোক হওয়া। কিন্তু আসল শিক্ষায় দরকার কম্পিউটারের মত সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের। একইসঙ্গে যুক্ত করতে হবে লজ্জা, শরম, বিবেক, মানবতা এবং মনুষ্যত্বকে। আমি মনে করি লজ্জা এবং শরম আনতে পারে মানুষ জাতির পরিবর্তন। যদি বিবেককে (সিস্টেমকে) ঠিকমতো কাজে লাগানো যায়। কিন্তু বিবেক যদি শরমে লজ্জা না পায় তখন ধরে নিতে হবে বিবেক কম্পিউটারের মতো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তার প্রমান অ্যাম্বুলেন্সে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এক স্কুল ছাত্র নাম তিতাস।

তিতাসকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে তিন ঘণ্টা আটকে রাখে ফেরি কর্তৃপক্ষ। কারণ কোনো এক ভিআইপি ঢাকায় ফিরবে ওই একই ফেরিতে। তাই আহত শিক্ষার্থীর স্বজনরা শত অনুরোধ করলেও তা কানে নেননি ফেরি কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, যুগ্মসচিব যাবেন ফেরিটিতে, তিনি না আসা পর্যন্ত কোনো মতে ফেরি ছাড়া যাবে না। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সচিব আসে, তারপর ছাড়া হয় ফেরি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তিতাসের।

 

জানিনা কি কারণে কার ভয়ে, কিসের লোভে বা কিসের বিনিময়ে এমনটি করেছে ফেরি কর্তৃপক্ষ? এদিকে বিলম্বের কারণে ঝরে গেল একজন নতুন প্রজন্ম। আমি সমাজের এ ধরনের উচ্চ পদস্থ কর্মে জড়িত মানুষদের বিবেক দেখে সত্যি লজ্জা পেয়েছি।

দেহে বিবেক নামে যে সিস্টেম রয়েছে তার মধ্যে যদি লজ্জা শরম না থাকে তখন তাকে ঘৃণা করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকে না।

 

‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সে কি মোর অপরাধ’ - এ কথা বললে যে প্রিয় শরম পায় আমি তাকে ভালোবাসি। কিন্তু ‘তুমি চরিত্রহীন, নির্লজ্জ, কলঙ্কিনী তাই আমি দূরে থাকি সে কি মোর অপরাধ’ - এ কথা বললে যে প্রিয় শরম পাবে আমি তাকে ঘৃণা করব।