লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী, এবার বিক্ষোভে নেই বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফরে বিক্ষোভ করছে না যুক্তরাজ্য বিএনপি। ১০ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা বিরল। ব্রিটেন প্রবাসী সাধারণ মানুষ বিএনপির এমন মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন এদেশের দেশীয় রাজনীতিবিদদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে।

 

 

১৯ জুলাই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় বিকালে লন্ডনে আসেন । তিনি লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে তাজ হোটেলে অবস্থান করছেন। ৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনে থাকার কথা রয়েছে। চোখের সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ।

 

প্রধানমন্ত্রী হোটেলে আসার পুর্ব থেকেই বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জন্য হোটেলের সামনে স্থান নির্ধারণ করে দেয়া ছিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় জানা যায় সেখানে নেতাকর্মীদের কোনো জটলা ছিল না। ছিল না কোনো পুলিশের উপস্থিতিও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক বলেন, তারা শুক্রবার কালো পোশাক পরে হিথ্রো বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে এবার আগের মতো বিক্ষোভ করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য লন্ডনে এসেছেন। তাই মানবিক কারণে এবার বিক্ষোভ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’

 

এমএ মালেক আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, যে সম্মান আমরা প্রধানমন্ত্রীকে দেখাচ্ছি, তিনিও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি একই সম্মান দেখাবেন। মানবিক দিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি দেবেন, যাতে তিনিও বিদেশে এসে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে পারেন।’ এতে তারা আরও উৎসাহিত হয়ে দেশের জন্য সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি।

 

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবার তাদের বিক্ষোভের কোনো কর্মসূচি নেই। কিন্তু ঠিক কি কারণে বিক্ষোভ করা হচ্ছে না সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানেন না তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক নেতা বলেন, তিনি মনে করেন দলের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশেই বিক্ষোভ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যথায় যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার কথা নয়।

 

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হোটেলের সামনে বিএনপির কাউকে না দেখে তারা বেশ অবাক হয়েছেন। এতদিন পর বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে বিগত দিন তারা যা করেছে সেটা ভুল ছিল। এদেশে এসব নোংরামি করে কোন ফায়দা তাদের হয়েছে বলে মনে হয়না। আর দূরদর্শিতার সঙ্গে বিএনপি যদি সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারত, তাহলে বিএনপিকে এমন দুর্দশায় পড়তে হতো না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় ছাড়া পেলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিনই যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাত করছেন। প্রধানমন্ত্রী এখন অনেকটা সুস্থ।

 

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলেই তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী যতদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন ততদিনই তার হোটেলের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ চলতে থাকে। পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ দেখায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। পাল্টাপাল্টি ডিম ছোড়াছুড়ি এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশকে বেগ পেতে হয়। এবার তেমন কিছু ঘটছে না।