সচিব হতে চান ২৫০ জন, এ বছর শূন্য হবে ১৬ পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চলতি আগস্ট মাস থেকে শুরু করে আগামী ডিসেম্বর তথা চলতি বছরের মধ্যে ১৬ জন সচিবের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। আর ২০২০ সালের শুরু থেকে শেষ অবধি আরো ২৪ জন সচিবের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। এসব পদ পূরণের ক্ষেত্রে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতির নীতিমালা ২০০২ অনুসরণের বিধান রয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে প্রশাসনে।

 

আলোচ্য নীতিমালা অনুযায়ী সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সচিব পদে দুই বছর চাকরিকাল পূর্ণ করা, জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দুদকের ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিরূপ মন্তব্য না থাকা, সমগ্র চাকরিকালের সন্তোষজনক প্রতিবেদন (এসিআর) সব মিলিয়ে বেঞ্চ মার্ক ৮৫ নম্বর হলে তাকে সচিব পদের জন্য বিবেচনা করা হয়। তবে নম্বর কিংবা অন্যান্য যোগ্যতার ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রপতির প্রমার্জন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে ঐ বিধিমালায়। এরকম প্রমার্জন নিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার নজির রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত সচিবদের প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হতো। এখন সে নিয়ম পালটে সরাসরি সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ইতিপূর্বে জানিয়েছিলেন, একটি সচিব পুল করা হবে। সচিবের পদ শূন্য হলেই পুল থেকে জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন ৭৬ জন নারীসহ ৪৭৪ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। এরমধ্যে ১৯৮৬ ব্যাচসহ তদূর্ধ্ব ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব আড়াই শতাধিক। এ বছর যে ১৬ জন সচিবের পদ শূন্য হবে তা পূরণে ১৯৮৬ ব্যাচকে প্রাধান্য দিয়ে সচিব পদের জন্য বিবেচনা করা হবে।

এখন যেভাবে নিয়োগ হয়: এক জন সচিবের পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ তিন জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এসএসবির কয়েকজন সদস্য মিলে এ তালিকা তৈরি করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী এক জনকে নিয়োগের নির্দেশনা দেন। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান করে থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভায় পর্যালোচনা করে অন্যান্য পদে যেভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয় সেভাবে কার্যত সচিবের ক্ষেত্রে হয় না বলেই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ লক্ষ করা যায়। এতে করে অনেক জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তা সময়মতো সচিব হতে পারেন না।

বর্তমানে ১৯৮২ ব্যাচ স্পেশাল ব্যাচ (৮৩), ৮৪, ৮৫, ৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তারা সচিব পদে কর্মরত আছেন। দেখা যায়, অধস্তন ব্যাচের কর্মকর্তার একইসঙ্গে বা পরে ঊর্ধ্বতন ব্যাচের কর্মকর্তারা সচিব পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। যোগ্যদের জীবন থেকে বেশকিছু সময়ও পার হয়ে যাচ্ছে ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে।