কমছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, কমছে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। এর ফলে দিন-দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ে জনমনে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে তাও কমে আসছে।

জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৭০৬ জন। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত নতুন করে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬১৫ জন।

 

আর সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭২ জন ডেঙ্গু রোগী। এ হিসেবে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতির দিকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, নতুন ওষুধে মশা নিধনে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। মশার উৎসস্থল ধ্বংসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। আশা করি, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৮ হাজার ৭৪৭টি বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, ডিএসসিসি গত জুলাই মাস থেকে প্রতিটি বাসায় গিয়ে এডিস মশার উৎপত্তি ধ্বংস করার জন্য ওষুধ ছিটাচ্ছে। সোমবার পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচির আওতায় ৫৮ হাজার ৭৪৭টি বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কমবেশি ১ হাজার ২০০ বাসায় এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সেগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে আমাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চিরুনি অভিযান শুরু করছি। প্রথম সাত দিন অভিযান চালানো হবে। এর ৭ থেকে ১০ দিন পর আমরা আবার সেখানে যাবো। সেখানে গিয়ে যদি লার্ভা পাই তাহলে আমরা জরিমানা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটি ওয়ার্ডকে ১০টি ভাগ এবং ১০টি সাব ব্লকে ভাগ করেছি। আমরা একটি চিরুনি অভিযান করবো। প্রতিদিন আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালানো হবে। আমাদের এডিস মশা থেকে বাঁচতে হলে জনগণকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়া ৫৪ জন কাউন্সিলরকে অনুরোধ করবো, আপনারাও মাঠে নেমে পড়ুন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আমাদের হাসপাতালে কিছুটা কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১২৯ জন রোগী, সর্বমোট ভর্তি আছে ৫৩৫ জন। এছাড়া প্রতিদিনই রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।

এর আগে গত শনিবার সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তহমিনা বলেন, আগামী সাত দিন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে নয়। আমরা যদি এডিসের দুর্গে আঘাত হানতে না পারি, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে বলা মুশকিল।

এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা বুঝতে সপ্তাহ খানিক সময় লাগবে। আমাদের এখন উচিত নিজেদের এডিস মশা থেকে দূরে রাখার সমস্ত পন্থা অবলম্বন করা।

এদিকে, ডেঙ্গু মোকাবেলায় ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের ৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং আরো ৪টি সংস্থার সমন্বয়ে ই-ক্যাবের সহায়তায় এই বিশেষায়িত মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে।

এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে যে কেউ সারা দেশের যেকোনো স্থানে মশার প্রজনন স্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে পুরো দেশের মশার প্রজনন স্থানের ম্যাপিং তৈরি করা হবে। ফলে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার খুব সহজেই কোন এলাকায় কতজন লোক নিয়োগ করতে হবে তা মশার জন্ম স্থানের ঘনত্ব দিয়ে নির্ধারণ করতে পারবে। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পরিমাণ ওষুধ কিনতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়টিও জানা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে।