মুনাফার শীর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির প্রাধান্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মুনাফার দিক দিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাধান্য রয়েছে। সেই কারণে তালিকভুক্ত অন্যসব কোম্পানির চেয়ে এসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদাও বেশি। সম্প্রতি ডিএসই থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায় মুনাফায় (ইপিএস এর ভিত্তিতে) এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানই বহুজাতিক।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিতে ঝুঁকি কম থাকার পাশাপাশি আর্থিক অবস্থা ভাল থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি থাকে। তাছাড়া বেশিরভাগ কোম্পানিই শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশানুযায়ী লভ্যাংশ প্রদান করে সে কারণে এসব শেয়ারের চাহিদাও বেশি।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সবচেয়ে মুনাফায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে বাটা স্যু। এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার প্রতি আয় ৭২ টাকা ৭৯ পয়সা। তবে চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় প্রাপ্তিকে মুনাফা অনেক কমে গেছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ টাকা ৪২ পয়সা।

মুনাফায় পরের অবস্থানে রয়েছে রেকিট বেনকিজার। এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা ২০ পয়সা। ৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা ইপিএস নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে লিন্ডে বিডি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস ৫৫ টাকা ৬২ পয়সা। তালিকায় ৫২ টাকা ১৫ পয়সা ইপিএস নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ। অন্য প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টসের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৫৫ পয়সা।

এদিকে মুনাফায় এগিয়ে থাকা শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে দেশিও তিন কোম্পানি।

এগুলো হচ্ছে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, পদ্মা অয়েল এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রেনেটার ইপিএস ৩৮ টাকা ৫৭ পয়সা, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের ৩৬ টাকা ২৩ পয়সা, পদ্মা অয়েলের ৩৪ টাকা ১৮ পয়সা এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৩ পয়সা।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, বহুজাতিক কোম্পানি আর্থিক ভাল থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। সে কারণে পুঁজিবাজারে এমন ধরনের আরও কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়া জরুরী। কিন্তু বাস্তবে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না। যারা আমাদের দেশে ব্যবসা করছে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সরকারসহ সবার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কারণ পুঁজিবাজারে ভাল শেয়ারের জোগান দিতে এসব কোম্পানির বিকল্প নেই।

গত ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হয় গ্রামীণফোন। এরপর আর কোন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হতে দেখা যায়নি। বিষয়টি পুঁজিবাজারের জন্য ভাল দিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি কোকাকোলাকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরামর্শ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বছরের পর বছর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে না আসায় এসব কোম্পানির মুনাফার কোন সুফল পাচ্ছেন না দেশবাসী।

উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা হচ্ছে ৩৫৫টি। এর মধ্যে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত রয়েছে মাত্র ১১টি। এগুলো হচ্ছেÑ বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন, ম্যারিকো বাংলাদেশ, লিন্ডে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, সিঙ্গার বাংলাদেশ ও বাটা স্যু।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি জরুরী। কিন্তু বিভিন্ন কৌশলে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে দূরে সরে রয়েছে। এ অবস্থায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে এখন দ্বিমত নেই বিএসইসি, ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) ও সিএসইর (চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ)।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, আমি মনে করি এসব কোম্পানির প্রতি সরকারের কঠিন হওয়া উচিত। তাদের ওপর করের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিলে তারা পুঁজিবাজারে আসবে। কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে তারা কিছুতেই পুঁজিবাজারমুখী হবেন না।