ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগ সুস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সারাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬ হাজার ৩৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪৬ জন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৩৮ জন এই জ্বরে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৯৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় শাহানারা খাতুন নামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা ভয়াবহ ডেঙ্গু মোকাবেলায় ঢাকাসহ সারাদেশের মশার প্রতিটি জন্ম ও আবাসস্থল ধ্বংস করতে সবাইকে জরুরী পরিচ্ছন্ন কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। শুক্রবার বাপাসহ বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠনের এক নাগরিক সমাবেশে এই আহ্বান জানানো হয়। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, সরকার মশার বংশবিস্তার রোধে ব্যর্থ হয়েছে। বিদেশ থেকে মশা নিধনের আনা ওষুধ পরীক্ষা ছাড়াই ব্যবহার করছে। ওষুধের কার্যক্ষমতা নিয়েও জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। এডিস মশার বিস্তার শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং সারাবিশ্বে। কিন্তু বিশ্বের অন্য দেশে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মশার বিস্তাররোধে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থা ও ব্যক্তি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ দেয়া তথ্যে দেখা গেছে রাজধানীতে ঢাকাকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। রাজধানীর বাইরেও ধারাবাহিকভাবে কমলেও কখনও কমে আবার বেড়ে যাচ্ছে। তারা জানায় ঢাকার ৪১ সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩ হাজার ৪১১ জন। ঢাকার বাইরের এই সংখ্যা পাওয়া গেছে ২ হাজার ৬২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬৮৯ জন। ঢাকার বাইরের এই সংখ্যা ৭৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া হিসাব মতো শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২১, ২২ ও ২৩ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছে যথাক্রমে ৭১১, ৭৬১ ও ৬৮৯ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ৭৬৪, ৭৮৯ ও ৬১০ জন। এই তিনদিনে ঢাকার বাইরে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৯১৫, ৮৩৬ ও ৭৫৭ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ হাজার ৫৪ ৯৩৯ ও ৯৪৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গুরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা আগে চেয়ে বেড়েছে। সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সার্বিকভাবে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা কমে আসছে।

সাতক্ষীরায় ১ জনের মৃত্যু ॥ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শাহানারা খাতুন (৩৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। শাহানারা খাতুন সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী। এনিয়ে সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শাহানারা খাতুনের দেবর জিয়াউর রহমান জানান, গত ১৮ তারিখে তার ভাবি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোর রাত ৩টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২২ আগস্ট বিকেলে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামের মাদ্রাসাছাত্র আলমগীর গাজী।