শেবাচিম হাসপাতাল: ১২৫ চিকিৎসকের পদ শূন্য অথচ রোগী ভর্তি চার গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় ১৯৭৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালটি এক হাজার শয্যার হলেও জনবল কাঠামো এখনও ৫০০ শয্যার।

 

হাসপাতালে চিকিৎসকের ১২৫টি পদ শূন্য হলেও চার গুণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগী ও চিকিৎসকরা। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হাসপাতালটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।

চলতি বছরে শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ২০ আগস্টে ১৮৫১ জন, ২১ আগস্টে ১৮৯৩ জন, ২২ আগস্টে ১৮৫৭ জন ও ২৩ আগস্টে ১৮২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার অন্তঃবিভাগে ১৯৭৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, শত শত রোগী হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী মেঝেতে অবস্থান করছেন। দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান শেবাচিম হাসপাতাল ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে এর শয্যাসংখ্যা ছিল ২৫০।

১৯৭০ সালে এটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিণত করা হয়। তখন এর শয্যাসংখ্যা দাঁড়ায় ৩২৪টি। পরে তা ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৩ সালে এটিকে ১০০০ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়।

হাসপাতালের আউটডোর-ইনডোর মিলে ২৮টি বিভাগে ৪৪টি ইউনিট রয়েছে। আইসিইউ, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, কার্ডিওলজি, মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, গ্যাসট্রো অ্যানটোলজি, নেফ্রোলজি, জেনারেল সার্জারি, নিউরো সার্জারি, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, ইউরোলজি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক, গাইনি, আবস্টোট্রিকস, শিশুরোগ, নিউনেটোলজি, আইসোলেশন ও মানসিক রোগ বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হলেও সাত বছর ধরে ৫০০ শয্যার জনবল ও অর্গানোগ্রামে কার্যক্রম চলছে।

এছাড়া চিকিৎসক থেকে শুরু করে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকট চরমে। চিকিৎসক-কর্মকর্তাসহ ২২৪টি পদের বিপরীতে ৯৯ জন চিকিৎসক রয়েছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসক সংকট কিছুটা কম থাকলেও আন্তঃবিভাগে সংকট বেশি।

৩৩টি রেজিস্ট্রার পদের মধ্যে ১৮টি শূন্য, ৬৬টি সহকারী রেজিস্ট্রার পদের মধ্যে ৪৮টি, ১০টি অ্যানেসথেসিওলজিস্ট পদের মধ্যে চারটি, ১০টি ইএমও পদের মধ্যে দুটি, ২০টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ১৮টি ও ২০টি ইনডোর মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে।

একই অবস্থা হাসপাতালটির আউটডোরে। আউটডোরে প্রতিদিন তিন হাজারের অধিক রোগীর সেবা দিচ্ছেন হাতেগোনা কয়েক চিকিৎসক।

বহির্বিভাগের ৪৬ জন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, ডেন্টাল সার্জনের মধ্যে ২২টি পদ শূন্য। প্যাথলজি বিভাগের আটটি ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট পদের তিনটি পদ শূন্য। অথচ এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগীর রোগ নির্ণয় করা হয়।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, চিকিৎসক সংকট দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হলেও হাসপাতালে জনবল কাঠামো ৫০০ শয্যারই রয়ে গেছে। আবার পুরোটাও পাওয়া যাচ্ছে না। ১২৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

একসঙ্গে শয্যা ও জনবল বাড়ানো হলে এ সমস্যা হতো না। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি হচ্ছে। ফলে সবাইকে বেড দেয়া যায় না। বারান্দায় ও সিঁড়ির করিডোরে রেখে অনেককে চিকিৎসা দেয়া হয়।