টানা দরপতনে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ কর্যদিবস দরপতন হলো।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ লাখ। দেশের জনস্যাংখা ১৮ কোটি কিন্তু সেভাবে তাদের বাজারে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না। গত ১০ বছরে যে পরিমাণ বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছিল, এখন আর বাড়ছে না। গত ১০ বছরে দেশের জিডিপির গ্রোথ অনেক বেড়েছে। আসলে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। যদি বিনিয়োগ করে কোনো লাভ করতে না পারে, তাহলে কেন তারা বাজারে আসবে। বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম মুনাফা দিতে না পারলে বাজার স্থিতিশীল অবস্থানে আসবে না। 

এডিবির মতে, এশিয়ার মধ্যে টপ অর্থনীতির গ্রোথের দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি আইএমএফ বলেছে বাংলাদেশ অর্থনীতির গ্রোথ সাত দশমিক ছয় শতাংশ, যা ভারতের অর্থনীতির গ্রোথের চেয়ে বেশি। ভারতের অর্থনীতির গ্রোথ সাত দশমিক দুই শতাংশ। কিন্তু এ গ্রোথের প্রতিফলন পুঁজিবাজারে দেখা যাচ্ছে না বরং তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাজারের যখন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়, তখন বাজারসংশ্লিষ্টদের সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। বাজারের মূল সমস্যাগুলো কোথায়? অর্থাৎ নতুন করে কী কোনো নিয়মনীতি প্রণয়ন করতে হবে, নাকি বর্তমান নিয়মনীতিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে, না বাজার পরিচালনায় কোনো ঘাটতি রয়েছে বা বাজারের এ অবস্থা কেন বিরাজ করছে এটি কেউ ভালোভাবে দেখছে না। আসলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দায়সারা আচারণ করছে অর্থাৎ বাজারের বর্তমান অবস্থা তো ভালোই আছে। আবার অনেক ব্রোকারেজ হাউজের মালিক একই সুরে সুর মিলাচ্ছেন, বাজার তো ভালোই আছে। সত্যিকার অর্থে বাজার ভালো অবস্থানে নেই। ভারতের অর্থনীতি নিম্নগতিতে তারপরও সে দেশের পুঁজিবাজারে তেজিভাব দেখা যাচ্ছে, কিন্তু দেশের অর্থনীতি দ্রম্নতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে; কিন্তু পুঁজিবাজার সেভাবে এগোচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে ধসের পর বাজারকে স্থির অবস্থানে আনার জন্য অনেক কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যেসব কোম্পানি আনা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ভালো পারফরম্যান্স করতে পারছে না বরং আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো বাজারকে স্থির অবস্থানে না এনে খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হচ্ছে না। আসলে এ পর্যন্ত বাজারসংশ্লিষ্ট অনেক নিয়মনীতি করা হয়েছে। এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে সমন্বিত উদ্যোগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত বাজারের জন্য কম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু বাজার ভালো হচ্ছে না। এমনকি ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেও লাভের দেখা মিলছে না। অন্যদিকে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে। যদি মানি মার্কেট স্থিতিশীল রাখা না যায় সেক্ষেত্রে পুঁজিবাজারও ভালো হবে না। 

এদিকে গতকাল সূচকের পাশাপাশি এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৯টির। আর ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচক ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পাশাপাশি এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে দিনভর লেনদেন হয়েছে ৩৯৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৪২ কোটি ৯০ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু জুট স্টাফলার্সের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার লেনদেনে হয়েছে। ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্টাইল ক্রাফট।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, গ্রামীণফোন, লিগাসি ফুটওয়্যার, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যাল, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল এবং জেএমআই সিরিঞ্জ।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩০২ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৫০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির।