রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া চায় সশস্ত্রবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ চায় সশস্ত্র বাহিনী। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিও ওই এলাকার নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্‌, মোতাহার হোসেন, মহিববুর রহমান ও নাহিদ ইজাহার খান বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, অনেকে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এদিক-সেদিক যাচ্ছে। এজন্য কমিটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। কেউ যেন ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারে আবার কেউ যেন ক্যাম্পে ঢুকতে না পারে সেটা দেখতে বলা হয়েছে।

বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, সেনাবাহিনী ৭টি ক্যাম্পের মাধ্যমে ওই এলাকায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে আসছে। ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিদিন ২১টি যৌথ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

ওই প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও পাহাড়ি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার অনুপস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা নাগরিকেরা ক্যাম্প ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য ক্যাম্প এলাকায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাটাতারের বেড়া বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি।

এদিকে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প এলাকার বাইরে যাতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য প্রয়োজনে যৌথ টহলের ব্যবস্থাসহ সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করা হয়েছে এই কমিটির আগের বৈঠকে।

এছাড়া ওই বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান বলেছিলেন, রোহিঙ্গারা শুধু বাংলদেশ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ১২-১৭ বছরের শিশু রয়েছে প্রায় ৪ লাখ। এরা কোনো শিক্ষাগ্রহণ না করায় ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। এরা সুযোগ পেলে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।