মায়াবতীর মায়াজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

প্রথমবার চলচ্চিত্রে জুটি হয়ে অভিনয় করলেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ইয়াশ রোহান। এর আগে ‘বায়োস্কোপ’ নামের একটি টিভি নাটকে দুজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এবার অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় ‘মায়াবতী’ চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে দেখা গেল তাদের। গতকাল শুক্রবার সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। মায়াবতী প্রসঙ্গ নিয়েই নির্মাতা অরুণ চৌধুরী, অভিনেত্রী তিশা এবং ইয়াশ রোহানকে নিয়ে সাজানো হলো এই প্রতিবেদন। লিখেছেন শাহনাজ জাহান

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় নৈপুণ্যে মুগ্ধ করে চলেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার, ডুব, মেন্টাল, অস্তিত্ব এবং সবশেষ তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘হালদা’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিশা। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পেলেও বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে ছবিটি। ওশান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং হংকং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের জন্যও মনোনীত হয়েছে ছবিটি। অন্যদিকে ইয়াশ রোহানের অভিনয় ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে পরীমণির সঙ্গে জুটি হয়ে প্রথমবার বড় পর্দায় দেখা যায় ইয়াশ রোহানকে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাতের পর ‘মায়াবতী’ তার দ্বিতীয় ছবি।

চলচ্চিত্রে একসঙ্গে প্রথম
তিশা : ইয়াশ রোহানের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এর আগে যাদের সঙ্গে অভিনয় করেছি, তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই অভিনয় করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। ফলে নিজেদের মধ্যে বন্ডিংটা হতো। সহশিল্পীর অভিনয় ক্রিয়ায় আমাকে কী প্রতিক্রিয়া করতে হবে মোটামুটি জানা ছিল। কিন্তু ওর সঙ্গে (ইয়াশ) অভিনয় করতে এসে নতুন অভিজ্ঞতা হলো। নতুন অনেক কিছু শিখেছি।

ইয়াশ রোহান : এর আগে বায়োস্কোপ নামের একটা টিভি নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছি। সেটাকে প্রস্তুতি গ্রাউন্ড বলা যেতে পারে। তবে চলচ্চিত্রে এটাই প্রথম। ভীষণ উপভোগ করেছি শুটিংয়ের সময়গুলো। অভিনয় করতে গিয়ে তিশার মতো গুণী শিল্পীর কাছ থেকে প্রচুর সহযোগিতা পেয়েছি।

শুটিং অভিজ্ঞতা
তিশা : এই ছবিতে অভিনয় কখন যে শুরু হলো, আর কখনো যে শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। সবাই ভীষণ আন্তরিক। আর অরুণ দা’র সঙ্গে এর আগে নাটকে অভিনয় করা হয়েছে। কিন্তু চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই প্রথম। নাটকের শুটিং ইউনিট একরকম, সিনেমায় তো আরেক রকম। অরুণদা ভীষণ ভালো একজন নির্মাতা। ছবিটিতে এমন চমৎকার একটা চরিত্রের জন্য আমাকে ভেবেছেন, এজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

ইয়াশ রোহান : অভিনয় ক্যারিয়ার আমার তো বেশিদিন নয়। ‘স্বপ্নজাল’, এরপর ‘মায়াবতী’। মাঝে টিভি নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা। এই ছবিতে কাজ করাটা আমাকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। অনেক গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এই ছবিতে।

পতিতাপল্লীতে শুটিং
তিশা : পতিতাপল্লীতে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমার জন্য নতুন নয়। এর আগেও সেখানে অভিনয় করেছি। মায়াবতী ছবির জন্য আমরা দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীতে শুটিং করেছি। সেখানে নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা এই সিনেমার একটি বড় অংশের শুটিং করেছি দৌলতদিয়ার যৌনপল্লীতে। সেখানকার মানুষেরা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। ছবিটি তাদের ডেডিকেট করা উচিত। আমরা অনেক কষ্ট করেছি সিনেমাটির জন্য। বিশেষ করে নির্মাতা অরুণ চৌধুরী অনেক পরিশ্রম করেছেন।

ইয়াশ রোহান : এই ছবিতে অভিনয়ের সূত্রেই পতিতাপল্লীতে যাওয়া হলো। শুটিংয়ের সময় সেখানে ঘুরেছি। ওখানকার অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অভিজ্ঞতা শুনেছি। এটা আমার জন্য অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।

প্রেক্ষাগৃহে মায়াবতী দেখুন
তিশা : অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নির্মাতারা সিনেমা বানান শুধু দর্শকদের জন্য। দর্শক যখন প্রেক্ষাগৃহে সপরিবারে সিনেমা দেখতে আসেন, তখনই আসলে এত পরিশ্রম সার্থক হয়। আর ভবিষ্যতে নির্মাতাদের আরো সিনেমা বানাতে সাহস জোগায়। দর্শকদের বলতে চাই, তারা যেন সিনেমা দেখেন, তাদের মন্তব্য জানান এবং সাপোর্ট করেন।

ইয়াশ রোহান : ‘মায়াবতী’ আমার দ্বিতীয় সিনেমা। এর গল্পটা খুব চমৎকার। সিনেমাটির যে কয়টি জায়গায় সুযোগ ছিল, আমি ভালো করার চেষ্টা করেছি। আমার ক্যারিয়ারে এমন একটি সিনেমা খুব দরকার ছিল। অনেক কিছু শিখেছি। সবাইকে পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

নির্মাতার কথা
অরুণ চৌধুরী : এর আগে ‘আলতাবানু’ নির্মাণ করেছি। এবার মায়াবতী নিয়ে দর্শকের সামনে এসেছি। আশা করি, দর্শক ‘মায়াবতী’ দেখে নিরাশ হবেন না। আমার মতে প্রতিটি সিনেমা মূলধারার। ফর্মুলার বাইরের সিনেমাগুলোর দর্শক দিন দিন বাড়ছে। আমাদের নির্মাতা মনে করেন ফর্মুলা সিনেমা নির্মাণ করলেই দর্শকরা দেখবেন। আমি সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ‘মনপুরা’, ‘আয়নাবাজি’, ‘দেবী’ এগুলো কোনো ফর্মুলা সিনেমা নয়। কিন্তু দর্শক দেখেছেন। দর্শকরা কিন্তু সিনেমা দেখতে চান। আমরা নির্মাতারা তাদের টানতে পারছি না। মায়াবতী ছবিতে সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। মায়া নামের এক কিশোরী ছোটবেলায় তার মায়ের কাছ থেকে চুরি হয়ে যায়। পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে সে। তাকে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লীতে বিক্রি করা হয়। সেখানে মায়াকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন গানের গুরু খোদা বক্স। ওদিকে মায়ার গানের প্রেমে পড়েন একজন ব্যারিস্টারের ছেলে। একসময় ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে মেয়েটি। শুরু হয় নতুন গল্প। নতুন সংগ্রাম।