spot_img
spot_img

বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, রাত ১:৪২

প্রচ্ছদব্যবসা বাণিজ্য৬৬ দিনে দেশে কাজ হারিয়েছেন পৌনে ৪ কোটি মানুষ

৬৬ দিনে দেশে কাজ হারিয়েছেন পৌনে ৪ কোটি মানুষ

>> হতদরিদ্র হলেন ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ
>> ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষের শ্রেণিকাঠামোর পরিবর্তন
>> অতি ধনির অবস্থা অপরিবর্তিত

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকারঘোষিত ৬৬ দিনের লকডাউনে ৩ কোটি ৬০ লাখ ( প্রায় পৌনে ৪ কোটি) মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এ সময়ে ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষের শ্রেণি কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়ে গেছেন। তবে অতি ধনির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

২০২০-২১ অর্থবছরের বিকল্প বাজেট নিয়ে সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

‘করোনার (কোভিড-১৯) মহাবিপর্যয় থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তবনা’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সমিতির সহ-সভাপতি জেড এম সালেহের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ।

সমিতির সভপতি আবুল বারকাত বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরার সময় বলেন, করোনাভাইরাসের আগে আমাদের কর্মে নিয়োজিত ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষের শ্রেণি কাঠামো পরিবর্তন হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, লকডাউনের আগে অতি ধনী যে ১ কোটি ৭০ লাখ ছিল তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

jagonews24

‘তবে উচ্চ-মধ্যবিত্তে থাকা ৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ মধ্য-মধ্যবিত্তে নেমে গেছে। মধ্য-মধ্যবিত্তে থাকা ৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি ২ লাখ নিম্ন-মধ্যবিত্তে নেমেছে।’

তিনি বলেন, নিম্ন-মধ্যবিত্তে থাকা ৫ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ দরিদ্র হয়েছেন। আর দরিদ্র থাকা ৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ২ কোটি ৫৫ লাখ হতদরিদ্র হয়েছেন। সব মিলিয়ে লকডাউনের মাত্র ৬৬ দিনে ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষের শ্রেণি কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে। এ মানুষগুলো এক ধাপ নিচে নেমে গেছেন।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে অতীতে যেসব কথাবর্তা হয়েছে, সেসব ভুলে যান। বাংলাদেশে ২৬ মার্চের আগের অবস্থা নেই। লকডাউনের ৬৬ দিনে ঘটনা ঘটেছে মারাত্মক। সামনে এটা আরও বাড়তে থাকবে।

তিনি বলেন, গিনি সহগ (অর্থনীতিশাস্ত্রে আয়ের বৈষম্য পরিমাপের বহুল ব্যবহৃত পরিমাপক) যদি দশমিক ৫-এর বেশি হয় সেটা মারাত্মক। আর একটা সহগ আছে পালমা। পালমা সহগ দেখা হয়- সর্বোচ্চ আয় যে ১০ শতাংশ আছে এবং সর্বনিম্ন আয় যে ৪০ শতাংশের আছে, এই দুইয়ের মধ্যে যে পার্থক্য। এই পার্থক্য যদি ৩ গুণ হয় তাহলে বিপজ্জনক।

‘লকডাউনের আগে আমাদের গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮, এটি মে মাসের শেষে দশমিক ৬৩৫ হয়েছে। বিপদ মাপার রেশিও পালমা আমাদের ছিল ২ দশমিক ৯২, এখন ৭ দশমিক ৫৩। অতএব মহাবিপজ্জনক। বাংলাদেশ এখন উচ্চ আয় বৈষ্যমের দেশ এবং বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের দেশে পরিণত হয়েছে,’ বলেন আবুল বারকাত।

তিনি বলেন, আয় বৈষ্যম ও সম্পদ বৈষ্যম নিরসনের যত পথ পদ্ধতি আছে তার সবগুলো ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত