spot_img
spot_img

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, সকাল ৯:২০

প্রচ্ছদসারাদেশডোমারে সরকারের আশ্রয়ন (২) প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে বাধা

ডোমারে সরকারের আশ্রয়ন (২) প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে বাধা

নীলফামারীর ডোমারে সরকারের আশ্রয়ন (২) প্রকল্প উন্নয়নের কাজে বাধাগ্রস্থ করে মানব বন্ধন করেছে উক্ত এলাকার সরকারি খাস জমি দখলকারী কিছু অসাধু ব্যক্তি।

যাদের নামে কফিলত নাই তারা অবৈধ ভাবে প্রত্যেকে ৫/৭ বিঘা করে জমি দখল করে চাষাবাদ করছে এবং সরকারের রাজস্ব আয় ফাঁকি দিয়ে তারা বেশ কয়েকটি পুকুর লিজ না নিয়ে নিজেরাই মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এলাকাকে জিম্মিকরে কতিপয় স্বার্থন্বেসী মহল তাদের ফায়দা লুফে নিচ্ছে।

সেখানে সরকারি নির্দ্দেশনা অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যক্তি গায়ের জোর ও প্রভাব খাটিয়ে নানা রকম অবকাঠামো এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও বিল্ডিং তৈরি করে তারা ভোগদখল করছে।

সরকার কর্তৃক আশ্রয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাটের অমুমোদন হওয়ায় তাদের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্প উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্ত করে লোক দেখানো মানববন্ধন করেছে।

যানা যায়, উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের ভাটিয়া পাড়া গ্রামে। জেএল নং -৩৩, ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ২৯৮ নং দাগে মোট খাস জমি রয়েছে প্রায় ১৫.৩৭একর।

এর মধ্যে বিগত চেয়ারম্যান মৃত আব্দুল মজিদ ৫.৫০ একর জমিতে মাটি ভরাট সহ আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরি করে ভূমিহীনদের মাঝে বিলি বন্টনের প্রস্তাবের অনুলিপি জেলা প্রশাসকের বরাবরে প্রেরন করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ঠা মার্চ ২০২০ ইং তারিখে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ন (২)প্রকল্পের আওতাধীন পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের ভাটিয়া পাড়া গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাটের জন্য ২১২ মেঃটন চাল বরাদ্দ হয়।

বিষয়টি জানা যানি হলে , ৪নং ওয়ার্ড ভাটিয়া পাড়া গ্রামের জবান আলীর ছেলে জব্বার ও জালাল, কুরান আলীর ছেলে কোরবান, মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে শহিদুল, মৃত কাশেম আলীর ছেলে শহিদুল ও মহির, রহমান তালুকদারের ছেলে সামছুল, মজিবরের ছেলে ওয়াজেদ ও আনছার আলী মুন্সির ছেলে জমির তাদের সকলের দখলকৃত জমি হাতছাড়া হবে জেনে সকলে একজোট হয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্থ করে মানব বন্ধন করে।

এ বিষয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্থ কারী মৃত কাশেম আলীর ছেলে জহির উদ্দিন ও মৃত সেকেন্দার শেখের ছেলে মহির শেখ বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্প যদি হয় তাহলে আমরা যে জমি গুলো আবাদ করি সেগুলো আর আবাদ করতে পারবোনা। তাই আশ্রয়ন প্রকল্পটি যাতে না হয়, সে জন্য আমরা মানব বন্ধন করেছি।

ভাটিয়া পাড়া ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম জানান যে,তারা দীর্ঘদিন ধরে গায়ের জোর ও প্রভাব খাটিয়ে সরকারী খাস জমি দখল করে নানা রকম অবকাঠামো ও স্থাপনা তৈরি করে ভোগদখল করছে। যখন শুনেছে যে আশ্রয়ন প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে তাদের দখলকৃত জমি হাতছাড়া হবে, তাই তারা অন্য কোন উপায় না পেয়ে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্থ করছে।

এবিষয়ে পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক এমদা জানান, যাদের কাছে ৫/৭ বিঘা জমি আছে তারাই মানববন্ধন করেছে। সরকারের জমিতে বসবাস করে সরকারের উন্নয়ন কাজে যারা বাধা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমৃকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৩ মার্চ ২০২০ইং পাঙ্গামটুকপুর ইউনিয়নের ভাটিয়াপাড়া গ্রামের ৫.৫০ একর জমিতে আশ্রয়ন (২) প্রকল্পের মাটি ভরাটের নির্মিত্তে ১শত মেঃ চাল বরাদ্দ আসে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, সরকার আশ্রয়ন(২) প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই মোতাবেক বরাদ্দ এসেছে। যারা আশ্রয়ন প্রকল্প উন্নয়ন কাজে বাধাসৃষ্টি করে মানব বন্ধন করেছে তারা তো জমির মালিক না।

সরকারী যায়গা ফাঁকা পড়ে ছিল তারা বসবাস করছে। সরকার চাহিবা মাত্র তারা ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকিবে।

এখন সরকার যে নির্দেশনা দিবে আমরা সেই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবো।

বার্তা প্রেরক                                                                                                                      মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত