spot_img
spot_img

বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, সকাল ৭:৩৪

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদসারাদেশইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা

ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা


স্থানীয় ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে ইউজাররা ইন্টারনেটে গতি না পাওয়াতে একদিকে যেমন ভার্চুয়াল সামাজিক যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। আবার  অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, কোচিং, সংবাদ সংগ্রহ, কেনাকাটা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে।

করোনার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটাই রুদ্ধ এখন। মানুষের গতিবিধি খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। মানুষজন পারতপক্ষে  সব কাজ বিশেষত যেসব কাজ অনলাইনে করা সম্ভব তা বাড়িতে বসেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে, যেমন সামাজিক যোগাযোগ, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, কোচিং, সংবাদ সংগ্রহ, কেনাকাটা ইত্যাদি। কিন্তু  ইন্টারনেটের গতির অবস্থা করুন হওয়ায় সব কাজে-কর্মেই ভীষণ ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ওঝচ-ওহঃবৎহবঃ ঝবৎারপব চৎড়ারফবৎ) এর কাছে বার বার অভিযোগ করে সমস্যার কোনো  সুরাহা হচ্ছে না। তারা সব সময় বলে থাকে, ‘আপনার যন্ত্র/ডিভাইস/সিস্টেম আবার পুনঃচালনা করুন।’ এতে কখনো কখনো সাময়িক/ক্ষণিকের পরিত্রাণ মিললেও প্রকৃতপক্ষে ফলপ্রসূ কিছু হচ্ছে না।

করোনা দুর্যোগে ইন্টারনেটের গ্রাহক ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় আইএসপি  সেই তুলনায় (ইধহফরিফঃয) সরবরাহ করছে না। কারণ তারা তাদের  সক্ষমতার  অনেক বেশি ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে। ফলে একই ইন্টারনেট গতি নির্ধারিত গ্রাহকের তুলনায় অনেক বেশি গ্রাহকদের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ায় গতি ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে। বিটিসিএল, ম্যাঙ্গো টেলিকম, সামিট কমিউনিকেশন, বাংলাফোন, ভার্গো কামিউনিকেশন, নভোকম আইসিসি, জিওটেল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমদামে সাব লাইন কিনে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নেই মাইক্রোটিক রাউটার ২৪ ঘন্টা অন রাখার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ইউজাররা ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

বাড়িবাকা সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরপুর জেলা শহরের শ^াশত নিপ্পন জানান- তিনি স্থানীয় কম্পিউটার মেট থেকে মাসিক ৮শ টাকার বিনিময়ে সংযোগ নিয়েছেন ৫ এমবিপিএস। প্রতিষ্ঠানটি ব্যান্ড উইথ চুরি করছে বলেই ইন্টারনেটে গতি পাচ্ছেন না। তিনি বলেন ৩শ মিটারের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ থাকার কথা। কিন্তু ১০ মিটারের বাইরে গেলে সংযোগ থাকেনা। তিনি ভোক্তা অধিকার আইনে প্রশাসনের কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানান।

ঢাকার লাল মাটিয়া কলেজের শিক্ষার্থী তামান্না জামান জানান- করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি মেহেরপুরের বাড়িতে আছেন। জুমের মাধ্যমে অন্য জেলার শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন। কিন্তু মেহেরপুরে ইন্টারনেট সংযোগে গতি না থাকার কারণে ক্লাস করতে না পারাতে তিনি কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। মেহেরপুর সরকারি বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ অভিযোগ করেন- ‘কম্পিউটার মেট’ থেকে সংযোগ নিই। ইন্টারনেট গতি না থাকার সংযোগ বাতিল করেছি। ইন্টারনেটে গতি না পাবার কারণে অভিযোগ করলে কম্পিউটার মেট থেকে বলা হয় কম্পিউটারটি অফ করে অন করুন। তাদের কথা মতো অফ করে অন করলেই গতি বেড়ে যায় সর্বচ্চ এক ঘন্টার মতো। পরবর্তীতে গতি না পেলে অফ অন করলে গতি বাড়েনা। বিষয়টি রহস্যজনক। এই কারণেই এখন অতিরিক্ত টাকা খরচ করে মডেম ব্যাবহার করি। এই অফ অন রহস্যর বিষয়ে নেট ব্যবসার সাথে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান- স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে ম্যানেজিবুল সুইজ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যখন অভিযোগ করা হয় তখন কম্পিউটার অফ করে অন করতে বলা হয়। এই সময় এক ঘন্টার জন্য চাহিদার এমবিপিএস দেয়া হয়।

কম্পিউটারে কমান্ড দেয়া থাকে সর্বচ্চ এক ঘন্টার জন্য। এই সময় এমবিপিএস (গতি) ঠিক থাকে। একঘন্টা পর অটো এমবিপিএস কমে যাবে। যা ইউজারদের প্রতারনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সাবেক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ওয়ালিদ হাসান লিটন জানান- মাদার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে দামে ব্যান্ডউইথ কিনে সেই দামেই বিক্রি করতে হয়। ফলে কোন লাভ থাকেনা। লাভবান হতে হলে ১০০ ইউজারের জন্য কেনা ব্যন্ডউইথ ২শ জনের মধ্যে বিক্রি করতে হবে। তাতে ইউজাররা চাহিদার গতি থেকে বঞ্চিত হয়। এই কারণে তিনি ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইসিটি এক্সপার্ট যুগান্তরকে বলেন- মাদার আইএসপি থেকে লোকাল আইএসপি ব্যবসায়ীরা ব্যান্ডউইথ কিনে ব্যবসা করছেন। অতিরিক্ত মুনাফা পেতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ সফটওয়ারের মাধ্যমে নির্ধারিত‘র চেয়ে অতিরিক্ত ইউজারদের মধ্যে ব্যান্ডউইথ বন্টন করছে। ফলে ইউজাররা ইন্টারনেটে লো ব্যান্ডউইথ গতি পাচ্ছে।  ফলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত