spot_img
spot_img

বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, রাত ৯:৪১

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদসারাদেশচাঁদপুরে নদীতে নড়বড়ে নৌযান ভ্রমণ;বাড়াচ্ছে মৃত্যু ঝুঁকি!

চাঁদপুরে নদীতে নড়বড়ে নৌযান ভ্রমণ;বাড়াচ্ছে মৃত্যু ঝুঁকি!


চাঁদপুরে নদী পথে নড়বড়ে নৌযান ভ্রমণ দিন দিন ভ্রমণ পিপাসুদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।এসব ছোট ছোট নৌযান চলাচলের বেশির ভাগই নদীতে চলাচল করছে অনুমোদনবিহীন।তার ওপর এগুলোতে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য পযাপ্তভাবে নেই জীবন রক্ষাকারী বয়া,লাইফ জ্যাকেট,দিক-নির্নায়ক যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।যে কারনে ঘটছে স্রোতময় নদীতে প্রাণহানি।

সূত্র মতে জানা যায়, এসব ছোট ছোট স্টিলবডির ট্রলার নৌযানগুলোর নকশা অনুমোদন এবং সরকার নির্ধারিত সরঞ্জাম রাখার নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষিত। যে কারনে নাজুক এসব ট্রলার নদীতে দমকা হাওয়া ও ঝড়ের মুখে পড়লে ডুবে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ট্রলার নিবন্ধন না থাকায় প্রাণহানির সঠিক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছেনা।

সূত্র মতে আরো জানা যায়, না জানার জন্যই ট্রলারগুলোর কর্তৃপক্ষ তাদের ট্রলারের ফিটনেস চেক এবং নিবন্ধন করতে পারছে না। তবে সচেতনমহলের দাবী, এখন থেকে এক ট্রলার থেকে অন্য ট্রলারে যাতে রাখা হয় ওয়াকিটকিসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম। এ বিষয়ে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি বৃদ্ধি করতে সুদৃষ্টি দেন। এমনটিও সচেতনরা প্রত্যাশা করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক কিনা এ বিষয়টি বোট কর্তৃপক্ষের অনেকেই জানেনা। যেজন্য তারা ঘন্টা প্রতি ভ্রমণ পিপাসুদের থেকে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা করে নদী পথে ভ্রমণ করাতে ভাড়া হাকাচ্ছে। যদিও এতে কোনরূপ রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। যাতে করে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে নাম-সর্বোস্বহীন সমিতি বা সিন্ডিকেটের কাছে। যারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটাদাগে মাসোহারাভিত্তিক টাকা।

বিভিন্ন মহলে বিষয়টি আলোচনা করে জানা যায়, এসব কাঠ ও স্টিলবডির ট্রলার নদীতে যাওয়ার আগে কতজন ভ্রমণ পিপাসু যাত্রী নিয়েছেন। তার সাথে এটি নদীতে যাওয়ার সক্ষমতা রাখছে কি না? তা সংশ্লিষ্ট দফতর কে অবহিত করার কথা থাকলেও তা মানছে না কেউ। এজন্য সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি দফতরের সমন্বয়হীনতা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সুধীমহল।

২৫শে আগষ্ট মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চাঁদপুরের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, চলতি বছর আগষ্ট পর্যন্ত সময়ে ২৬টি নৌ দূর্ঘটনায় তারা অংশ নিয়েছেন। যেখান হতে তারা ২০টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে সব নৌযান দূর্ঘটনার খবর তাদের দফতর পর্যন্ত পৌঁছায় না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে শহরের বড়ষ্টেশন মোলহেডে মোহনা ডিঙ্গি মাঝী নামের এক সমিতির খোঁজ মিললো। যারা সংশ্লিষ্টদের থেকে ইজারাবিহীনভাবে মোলহেডের জায়গা দখল করে ট্রলার ভ্রমণ পরিচালনা করছেন। যাদের সমিতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৭২টি স্টিল বডি ট্রলার। বিষয়টি নিশ্চিত করলো মোহনা ডিঙ্গি মাঝী সমিতির সভাপতি মানছুর মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ মো. জাকির প্রমুখ। তারা জানান, তারা সরকারি নিয়ম মেনে ট্রলার চালাতে প্রস্তুত। তবে সে নিয়ম না জানায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এখানে সমিতির মাধ্যমে ট্রলার চালালেও সমিতিটি রেজিষ্ট্রেশন করতে পারছেন না। তাই তারা সরকারি সব নিয়ম মানতে তাদের মোহনা ডিঙ্গি মাঝী সমিতিটি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের নিকট রেজিষ্ট্রেশন করে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

এ রকমভাবে চাঁদপুরের পুরানবাজার, হরিনা, আলু বাজার, মোহনপুর সহ আরো বেশ কিছু স্থানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্টিল বডি ট্রলার নদীতে চলাচল করছে। যাতে লাভবান হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছেন সিন্ডিকেট চক্র।

তবে মোলহেডে আসা সাধারণ ভ্রমণ পিপাসুদের অভিযোগ, স্টিলবডি এসব টলার ঘন্টা প্রতি মাত্রাতিরোক্তভাবে ভাড়া নির্ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, তারা তাদের নড়বড়ে ফিটনেসের ট্রলারে ৩০/৪০ পর্যন্ত যাত্রী ধারণ করছে। অনেকে ট্রলার নিয়ে চলে যাচ্ছে পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার মাঝামাঝি স্রোতেও। অথচ তাদের ট্রলারে নেই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, রিং বয়া সহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম। এমনকি নেই ট্রলার চালকদের তেমন কোন পশিক্ষণ। এতে করে নৌ ভ্রমণে মৃত্যু কূপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, আমরা স্টিল বডি ট্রলারগুলো কে বার বার সতর্ক করছি। ওরা মাঝ নদী বা স্রোতময় এলাকায় না যেতে পারে সে ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমরা মোলহেডে গতবছরের আগের বার ১’শ এবং গত বছর আরো ৫০ টি লাইফ জ্যাকেট ও বেশ কিছু রিং বয়া ওদের স্টিলবডি ট্রলার চালকদের দিয়েছি। এবছরেও দরকার হলে আরো দিয়ে দিবো। তিনি আরো বলেন, ওরা যদি অতিরিক্ত ভাড়া এবং ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী নেয় এবং যাত্রীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া ট্রলারে উঠায়। এ বিষয়ে দিক-নির্দেশনা অমান্য করলে ওদের বিরুদ্ধে ঘন ঘন মোবাইল কোর্ট করে ব্যবস্থা নিবো।

বার্তা প্রেরক
অমরেশ দত্ত জয়
চাঁদপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত