spot_img
spot_img

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, সকাল ৮:২২

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদসারাদেশসাতক্ষীরায় অস্বাভাবিক হারে মাছের দাম কম! বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সাতক্ষীরায় অস্বাভাবিক হারে মাছের দাম কম! বিপাকে ব্যবসায়ীরা





সাতক্ষীরায় অস্বাভাবিক হারে মাছের দাম কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাছের দাম বৃদ্ধির আশায়, ঘের থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন ঘের ব্যবসায়ীরা। এতে করে বাজারে সরবরাহ কমেছে মাছের। ঘের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছ চাষ বেশি হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে সেই সঙ্গে দামও কমেছে। মাছের এখন মান নেই। তবে মৎস্য অধিদপ্তর বলছে,  করোনাকালীন সময়ে মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। মূলত এ কারণে মাছের দাম কমেছে।

জেলার মাছের বড় বাজার সুলতানপুর। এ বাজার থেকে প্রতিদিন ৩-৪ টন মাছ খুচরা বাজারে বেচাকেনা  হয়। যেখানে আগে বিক্রি হতো ৭-৮ টন মাছ। মাছ বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম বলেন, খুব খারাপ অবস্থায় আছে মাছের বাজারটি। এখানে মাছের দাম কমার পাশাপাশি সরবরাহও কমেছে। দিনশেষে মাছ বিক্রি করতে পারছে না অনেক ব্যবসায়ী। সব মাছেরই দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা। সাতক্ষীরা বড় বাজার থেকে প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চিটাগং, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

উত্তরবঙ্গে বর্তমানে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এলাকায় মাছের চাষ হওয়ায় এখানকার মাছের চাহিদা কমেছে বলেও জানা অনেক ব্যবসায়ীরা। সাতক্ষীরার মাছের বড় আড়ৎ বিনেরপোতা মাছ বাজার। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এ বাজার থেকে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ যথেষ্ট কম বলে জানিয়েছেন বিনেরপোতা মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ সভাপতি মো. আরশাদ আলী। তিনি জানান, বাজারে মাছের সরবরাহ যথেষ্ট কম। গত বছর এমন সময়ে প্রতিদিন মাছ কেনাবেচা হতো দেড় থেকে দুই কোটি টাকার। তবে এ বছর সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়েছে। ঢাকার বড় বড় মাছের ক্রেতারা এখন আসছেন না। তাছাড়া বাজারে মাছের দাম কম হওয়ায় বড় বড় ঘের ব্যবসায়ীরা ঘের থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কম রয়েছে।

এখানে প্রতিকেজি মাছের মূল্য ৩০-৪০ টাকা কমেছে। যেমন দুই কেজি ওজনের একটি সিলভার মাছ আগে পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। একই ওজনের একটি রুই মাছ ২১০ টাকা বিক্রি হয়েছে পাইকারি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। ট্যাবলেট মাছ বিক্রি হতো ১২০-৩০ টাকায় এখন হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। ১০-১২ কেজি ওজনের গলদা চিংড়ি প্রতি কেজি বিক্রি করছি ৬৯০ টাকায়। একই ওজনের মাছের মূল্য আগে ছিল ৯৫০-১০০০ টাকা। বিনেরপোতা বাজারের মাছের কমিশন এজেন্ট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান পলাশ বলেন আমাদের কোন লস নেই তবে ঘের ব্যবসায়ীরা আছেন লোকসানে। আড়তে প্রতিদিন তিন-চার লাখ টাকার মাছ আসছে বলে জানান তিনি। বিনেরপোতা মাছের আড়ত থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে ৭-৮ ট্রাক মাছ।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, মাছের উৎপাদন বেশী হওয়ায় দাম কমেছে ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। মূলত করোনাকালীন সময়ে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। যার কারণে মাছ ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে ক্রেতা না থাকায় মাছের দাম কমেছে।
করোনার প্রভাবে নানা কারনে ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

বার্তা প্রেরক
মোঃ খলিলুর রহমান
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি







মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত