spot_img
spot_img

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, বিকাল ৩:৩৫

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জআপেলের চাষাবাদ ও পুষ্টিগুণ

আপেলের চাষাবাদ ও পুষ্টিগুণ


আপেল এক প্রকারের ফল। এটি রোসাসি (Rosaceae) পরিবারের ম্যালিয়াস ডমেস্টিকা (Malus domestica ) প্রজাতিভুক্ত। আপেল মূলত তার মিষ্টি স্বাদের জন্য জনপ্রিয়। সারা পৃথিবীব্যাপী আপেলের চাষ হয়ে থাকে এবং সবচেয়ে বেশি চাষকৃত প্রজাতি হচ্ছে জেনাস ম্যলুস (genus Malus)। মধ্য এশিয়াকে আপেলের উৎপত্তিস্থল মনেকরা হয়, যেখানে এখনও তার পূর্বতন বুনো প্রজাতি ম্যলুস সিভেরসিকে (Malus sieversii) দেখতে পাওয়া যায়। হাজার হাজার বছর ধরে এশিয়া এবং ইউরোপ জুড়ে আপেলের চাষ হয়ে আসছে এবং ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় এর পদার্পণ হয়। অনেক সংস্কৃতিতে আপেলের ধর্মীয় এবং পৌরাণিক তাৎপর্য আছে, এদের মধ্যে নর্স, গ্রীক এবং ইউরোপীয়ান খ্রিস্টীয় ঐতিহ্য অন্যতম। সাধারণত আপেলের জাতগুলি মূলের কলমের মাধ্যমে তৈরি করা হয়, যা ফলস্বরূপ গাছের আকার নিয়ন্ত্রণ করে। আপেলের প্রায় ৭,৫০০ টির বেশি পরিচিত জাত রয়েছে।

চাষাবাদ

বংশ বিস্তার

অনেক জাতের আপেল বীজ থেকে সহজেই বৃদ্ধি পায়। তবে অনেক বহুবর্ষজীবী ফল আছে যা মাতৃ গাছের চেয়ে মিষ্টি হয়। সে কারণে বীজ থেকে উৎপন্ন চারা গাছটিকে বলে জাইগোসিটি। মাতৃ গাছ থেকে যে চারা বানানো হয় সেটা জীনগত কিছুটা পরিবর্তন হয়। প্রকৃতঅর্থে আপেলের বীজ থেকে চারা রোপণ করার সময় ভালোভাবে বংশবৃদ্ধি হয় না, কলম করে সাধারণত নতুন আপেল গাছ উত্পাদন করতে হয়। গ্রাফ্টের নিচের অংশের জন্য ব্যবহৃত রুটস্টকগুলি বিভিন্ন ধরনের আকারের গাছ উত্পাদন করতে নির্বাচন করা যেতে পারে, কলম করার সময় গাছের নিচের অংশের রুটস্টকগুলি (রুটস্টক হচ্ছে একটি উদ্ভিদের অংশ, প্রায়শই একটি ভূগর্ভস্থ অংশ, যা থেকে নতুন ভূগর্ভস্থ বৃদ্ধি উত্পাদিত হতে পারে) গুলো ব্যবহার করতে হয়, যার কারণে বিভিন্ন ধরনের আকারের গাছ উত্পাদন করতে নির্বাচন করা যেতে পারে। এছাড়া শীত থেকে রক্ষা পেতে, পোকামাকড়, রোগবালাই দমন ও পুষ্ট গাছের জন্য মাটি নির্বাচন করা প্রযোজন।

খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অবধি ইরান এবং এশিয়া মাইনরের ইতিহাস থেকে বামন শেকড় থেকে আপেল গাছের চারা তৈরি কথা জানা যায়। মহান আলেকজান্ডার বামন আপেল গাছের নমুনা এরিস্টটলের লিসিয়ামে প্রেরণ করেছিলেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে বামন রুটস্টকগুলি বা শেকড় পদ্ধতি প্রচলিত হয়ে ওঠে এবং পরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন চক্রের মধ্য দিয়ে বিস্তার লাভ করে।

পরাগায়ন

মূল নিবন্ধ: পরাগায়ন

আপেলের পরাগায়ন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলের বিকাশের ও উৎপাদনের জন্য অবশ্যই ক্রস-পরাগায়ন করতে হবে। প্রতি মৌসুমে ফুল ফোটার সময়, আপেল চাষীরা প্রায়শই পরাগরেণুর জন্য পরাগ বাহন ব্যবহার করেন। বিশেষ করে মৌমাছি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বাগানে বিশেষ ধরনের মাছি ব্যবহার করা হয় বাণিজ্যিকভাবে ফলন বাড়াতে।

আপেলের পুষ্টিগুণ

খোসাসহ আপেলের খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে – আপেলে প্রায় ৮০% পানি থাকে যা শরীরের জন্য অতিব দরকারি।

খাদ্যশক্তি—– ৫২ কিলোক্যালরি
শর্করা—– ১৩.৮১ গ্রাম
চিনি—– ১০.৩৯ গ্রাম
খাদ্যআঁশ—– ২.৪ গ্রাম
চর্বি—– ০.১৭ গ্রাম
আমিষ—– ০.২৬ গ্রাম
জলীয় অংশ—– ৮৫.৫৬ গ্রাম
ভিটামিন এ—– ৩ আইইউবিটা
ক্যারোটিন—– ২৭ আইইউ
লুটেইন—– ২৯ আইইউ
থায়ামিন—– ০.০১৭ মিলিগ্রাম
রিবোফ্লেভিন—– ০.০২৬ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন—– ০.০৯১ মিলিগ্রাম
প্যানটোথেনিক অ্যাসিড—– ০.০৬১ মিলিগ্রাম
ফোলেট—– ৩ আইইউ
ভিটামিন সি—– ৪.৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন ই—– ০.১৮ মিলিগ্রাম
ভিটামিন কে—– ২.২ আইইউ
ক্যালসিয়াম—– ৬ মিলিগ্রাম
আয়রন—– ০.১২ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম—– ৫ মিলিগ্রাম
ম্যাংগানিজ—– ০.০৩৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস—– ১১ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম—– ১০৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম—– ১ মিলিগ্রাম
জিংক—– ০.০৪ মিলিগ্রাম
ফ্লোরাইড—– ৩.৩ আইইউ

সবুজ আপেল এর পুষ্টি গুন লাল আপেলের চেয়ে সবুজ আপেলের গুণ বেশি। সবুজ আপেল লাল আপেলের মতো তেমন স্বাদযুক্ত না হলেও এই আপেলের রয়েছে অনেক উপকারিতা।

  • আঁশঃ সবুজ আপেলে রয়েছে আঁশ। আঁশ হজমে সাহায্য করে। এটি বাউয়েল মুভমেন্ট ঠিক রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
  • হাড় শক্ত করেঃ সবুজ আপেলের মধ্যে রয়েছে আয়রন, কপার, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজম পটাশিয়াম ইত্যাদি। এই মিনারেলগুলো হাড়কে শক্ত রাখে। এটি থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক কার্যক্রমে সাহায্য করে।
  • কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করেঃ সবুজ আপেলের আঁশ কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে।
  • বিপাক ক্ষমতা বাড়ায়ঃ সবুজ আপেলের আঁশ হজম ভালো করে। বাউল মুভমেন্ট ভালো করে। এ জন্য এটি বিপাক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • রক্তের বাজে কোলেস্টেরল কমায়ঃ সবুজ আপেল রক্ত থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়।
  • আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করেঃ সবজু আপেলে থাকা উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। এটি প্রবীণ বয়সে আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।
  • লিভার সুস্থ রাখেঃ সবুজ আপেলের মধ্যে থাকা উপাদান লিভারকে ভালো রাখে। এটি বিভিন্ন ধরনের লিভারের সমস্যা প্রতিরোধ করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ সবুজ আপেলের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ও মিনারেল। এগুলো বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। তাই সবুজ আপেলকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত