spot_img
spot_img

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, সকাল ৮:০১

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদমন্ত্রণালয়কমলা লেবুর পুষ্টিগুণ

কমলা লেবুর পুষ্টিগুণ





কমলা এক প্রকারের লেবু জাতীয় রসালো ফল। কমলা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Citrus reticulata ইংরেজি নাম Mandarin orangeMandarin এবং Mandarine। এটি Rutaceae পরিবার এবং Citrus গোত্রের ভুক্ত। কমলাকে বলা হয়। কমলা একটি জনপ্রিয় ফল। এটি সরাসরি খাওয়া হয় এবং ফ্রুট সালাদে ব্যবহৃত হয়।

আণবিক গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, জাম্বুরা, মাল্টা ইত্যাদি প্রাকৃতিক-শংকরায়িত সাইট্রাস ফলসমূহ কমলা থেকে উদ্ভূত এবং কমলাই একমাত্র মিষ্টি স্বাদের আদি সাইট্রাস ফল। কমলা লেবুর গাছ আকারে বেশি বড় নয় – প্রায় ১০ মিটার (৩০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর ডালপালাগুলি কণ্টকময়, এবং গাছটির পাতাগুলি চিরহরিৎ ও ৪-১০ সেমি দীর্ঘ। বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে কিছু চাষ করা হয়। সুনামগঞ্জের ছাতকে উন্নতমানের কমলা হয়, তবে উৎপাদনের পরিমাণ বেশি নয়। কাচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে কমলা রং হয়। কমলা গাছ খরা সহ্য করতে পারে, তবে এর ফল তা সহ্য করতে পারেনা। কমলা ফল ঠান্ডা আবহাওয়া সহ্য করতে পারেনা। এটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষযোগ্য।

পুষ্টিগুণ

কমলায় বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এর রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম এবং এর পাতলা ত্বকে আঁশ রয়েছে।

কমলা লেবু, অপ্রক্রিয়াজাত অবস্থায়
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি ২২৩ কিজু (৫৩ kcal)

শর্করা

13.34 g

চিনি 10.58 g
খাদ্যে ফাইবার 1.8 g

স্নেহ পদার্থ

0.31 g

প্রোটিন

0.81 g

ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন এ সমতুল্য

বেটা ক্যারোটিন

(4%)

34 μg

থায়ামিন (বি১)

(5%)

0.058 mg

রিবোফ্লাভিন (বি২)

(3%)

0.036 mg

ন্যায়েসেন (বি৪)

(3%)

0.376 mg

প্যানটোথেনিক অ্যাসিড (বি৫)

(4%)

0.216 mg

ভিটামিন বি৬

(6%)

0.078 mg

ফোলেট (বি৯)

(4%)

16 μg

কোলিন

(2%)

10.2 mg

ভিটামিন সি

(32%)

26.7 mg

ভিটামিন ই

(1%)

0.2 mg

চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম

(4%)

37 mg

লোহা

(1%)

0.15 mg

ম্যাগনেসিয়াম

(3%)

12 mg

ম্যাঙ্গানিজ

(2%)

0.039 mg

ফসফরাস

(3%)

20 mg

পটাশিয়াম

(4%)

166 mg

সোডিয়াম

(0%)

2 mg

দস্তা

(1%)

0.07 mg

অন্যান্য উপাদানসমূহ
পানি 85.2 g
  • একক
  • μg = মাইক্রোগ্রামসমূহ  • mg = মিলিগ্রামসমূহ
  • IU = আন্তর্জাতিক এককসমূহ
Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database

ওজন কমানো, ত্বকের পুষ্টি এমন কি হৃদযন্ত্র ভালো রেখে শরীরে রক্ত চলাচল নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে কমলা।

  • দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতে: চোখের দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ। আমরা সবাই জানি ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। কমলায় বেশ ভালো পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
  • ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করে: কমলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনের পাশাপাশি রয়েছে আলফা ও বেটা ক্যারোটিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কমলায় উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ হচ্ছে ফ্ল্যাভনয়েড যা ফুসফুস এবং ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। তাই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন ১ টি কমলা খাওয়া উচিত।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: কমলা আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। একই সঙ্গে এ ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান। এ পুষ্টি উপাদানসমূহ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ছোটবড় নানা ব্যাধি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। মুখে ভিটামিন সি এর অভাবে যে ঘাঁ হয় সেটার ঔষুধ হিসেবে কমলা অনেক ভাল কাজ করে। এটি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কমলাতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন সেল ড্যামেজ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাঁড়ের গঠনে সাহায্য করে। এটি হজম শক্তি বাড়ায় ও সর্দিকাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তশূন্যতা সারাতে ভূমিকা রাখে।
  • ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকও দ্রুত বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। ভিটামিন সি ছাড়াও কমলায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ ত্বককে সতেজ ও সজীব রাখতে সাহায্য করে। বার্ধক্যেও ত্বককে অনেকটাই মসৃণ রাখে, সহজে বলিরেখা পড়ে না। কারণ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিস সি ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে বহু বছর। ফলে, বয়স বাড়লেও, আপনাকে দেখাবে চিরতরুণের ন্যায়।এটি ত্বকের ব্রণ সমস্যা দূর করে ও ত্বকের কালো দাগ সারায়। কমলা রস করে খাওয়ার চেয়ে কোয়া খাওয়াই শরীরের পক্ষে ভাল।
  • হার্ট সুস্থ রাখে: কমলায় আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে।পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কমলার চর্বিহীন আঁশ, সোডিয়াম মুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত উপাদানগুলো হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে।
  • কমলা লেবুর খোসাএর অনেক উপকারিতা আছে: ত্বকের সতেজতা বৃদ্ধিতে অথবা চুলের যত্নেও এটি ব্যবহার করা যায়।







মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত