রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, রাত ৩:৫৭

প্রচ্ছদ মন্ত্রণালয় ধুনটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে মাছ লুটের অভিযোগ

ধুনটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে মাছ লুটের অভিযোগ


বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক এক নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি জলাশয়ের টংঘর ও নৌকা ভাংচুরসহ মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুকুল চন্দ্র হালদার নামে ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার অলোয়া-বিষ্ণুপুর মৌজার ১০ একর ২৪ শতক আয়তনের দূর্গাদহ নামে সরকারি জলাশয়টি মথুরাপুর-উলিপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকুল চন্দ্র হালদার ইজারা বন্দোবস্ত নেন। তিনি বার্ষিক ৩০ হাজার টাকায় ১৪২৭ থেকে ১৪২৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা জলমহাল ইজারা বন্দোবস্ত কমিটির নিকট থেকে জলাশয়টি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেন। বর্তমানে ওই জলাশয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ রয়েছে।

পরবর্তীতে এই ইজারা বন্দোবস্তর বিরুদ্ধে রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) নিকট আপিল আবেদেন করেন অলোয়া-পিরহাটি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। এ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ইজারা বন্দোবস্তের আদেশ বাতিল করে পুনরায় ইজারা না হওয়া পর্যন্ত জলাশয়টি খাস কালেকশনের জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়।  ফলে উপজেলা জলমহাল ইজারা বন্দোবস্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুকুল চন্দ্র হালদারকে খাস কালেকশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় ১৫ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে মথুরাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অলোয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগী মতলব, আব্দুল খালেক, শাহীনসহ অনেকে ওই জলাশয় থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মাছ লুটে নেন। এ সময় তারা জলাশয়ের পাহারাদারের টংঘর ও নৌকা ভাংচুরসহ মুকুল চন্দ্র হালদারকে (জেলে) হত্যার হুমকি দিয়ে জলাশয় ত্যাগ করেছেন।

এ ঘটনায় মুকুল চন্দ্র হালদার ওইদিন বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম, মতলব ও আব্দুল খালেকসহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই জলাশয়ের ইজারা বন্দোবস্ত নিয়ে মুকুল হালদারের সাথে আমার বিরোধ রয়েছে। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে মাছ লুট ও ভাংচুরের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। মুলত মুকুল হালদারের ব্যবসায়ীক অংশিদার আব্দুল খালেক ও তার লোকজন জলাশয় থেকে মাছ ধরে নিয়েছেন।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, দূর্গাদহ সরকারি জলাশয়টির ইজারা বন্দোবস্ত নিয়ে আইনী জটিলতার কারণে মুকুল হালদারকে চলতি বাংলা সালের জন্য মাছ চাষের (খাস কালেকশন) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় মুকুল হালদারের প্রতিপক্ষের লোকজন অবৈধভাবে ওই জলাশয় থেকে মাছ শিকার করেছেন বলে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা প্রেরক
ফজলে রাব্বী মানু
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

সর্বাধিক পঠিত