spot_img
spot_img

বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, রাত ১২:১৪

প্রচ্ছদজাতীয়১৭৫ স্থাপনায় এডিসের লার্ভা, ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা

১৭৫ স্থাপনায় এডিসের লার্ভা, ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা

নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সব ওয়ার্ডে (৫৪টি) বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান (চিরুনি অভিযান) শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) অভিযানের তৃতীয় দিনে মোট ১৪ হাজার ৫৩ বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন ইত্যাদি পরিদর্শন করে ১৭৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ৯ হাজার ৫৬৭টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ অর্থাৎ বিভিন্ন স্থানে তিনদিনের বেশি জমা পানি পাওয়া যায়।

এসব স্থান ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পরিষ্কার করেন এবং মশকনিধন কর্মীরা কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এছাড়া এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৯টি মামলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ফুলের টব, বোতল, পানির মিটার, গ্যারেজ, পানির হাউজ, মাটির পাত্র, ভাঙা মগ, বাড়ির মেঝে, পানির ট্যাংক, প্লাস্টিকের পাত্র, ছাদের ড্রেন, দইয়ের পাত্র, পরিত্যক্ত কমোড, ডাবের খোসা, ভাঙা পাতিল, দুই বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান, বেইজমেন্ট ইত্যাদি স্থানের জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।

Dhaka-0

গত ৬ জুন থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনদিনে ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ৩৯ হাজার ৮৩৭ বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৫৩৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ২৭ হাজার ৮০৩ বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এছাড়া এ তিনদিনে মোট এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

চিরুনি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি সাবসেক্টরে ডিএনসিসির চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন মশক নিধনকর্মী, অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১০ মশককর্মী ডিএনসিসি আওতাধীন বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা আছে কিনা কিংবা কোথাও তিনদিনের বেশি পানি জমে আছে কিনা, কিংবা ময়লা-আবর্জনা আছে কিনা, যা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক তা পরীক্ষা করছেন। চলমান এ চিরুনি অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ৯জন কীটতত্ত্ববিদ, ডিএনসিসির তিনজন কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর ডিএনসিসির চিরুনি অভিযানসহ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে পুরো ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান সম্পন্ন করা হবে।

Dhaka

চিরুনি অভিযান চলাকালে যেসব বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে চিরুনি অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে। ডাটাবেস অনুযায়ী পরবর্তীতেও তাদের মনিটর করা সহজ হবে।

সোমবার উত্তরা অঞ্চলে মোট এক হাজার ১১৩ বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা ও ৮১৮টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন তিনটি বাড়ির মালিককে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। মিরপুর-২ অঞ্চলে মোট তিন হাজার ১৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে সাতটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে এডিসের লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া এক হাজার ৯৭৮ বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

Dhaka-1

মহাখালী অঞ্চলে মোট এক হাজার ৭১৪টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩৯টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং এক হাজার ২১১ বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম মহাখালী ওয়ারলেস এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় পাঁচটি মামলায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

মিরপুর-১০ অঞ্চলে মোট এক হাজার ৮১৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৭টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৭৫৪ বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজার অঞ্চলে মোট দুই হাজার ২০২ বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ২২টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং এক হাজার ৮০০ বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

Dhaka-2

হরিরামপুর অঞ্চলে মোট এক হাজার ৪২৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং এক হাজার ১২০টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

দক্ষিণখান অঞ্চলে মোট এক হাজার ২০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১০টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৫৮২টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উত্তরখান অঞ্চলে মোট ৭৩১টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ৯টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৪৮৩ বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

Dhaka

ভাটারা অঞ্চলে মোট ৪৪৭টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৩৭৪টিতে এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। সাঁতারকুল অঞ্চলে মোট ৫৭৫টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ১১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৪৫০টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

এডিস মশার প্রজনন উপযোগী স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলমান এ অভিযানের পূর্বেও ১৬ মে থেকে ঈদুল ফিতরের পূর্ব পর্যন্ত পাঁচটি ওয়ার্ডে (১, ৬, ১২, ১৮ ও ৩২ নম্বর) চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সে সময় ৯ হাজার ৪৬৩টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৮৭টিতে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া যায় এবং চার লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ডিএনসিসির বর্জ্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত