বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, সকাল ৭:৪৭

প্রচ্ছদ জাতীয় ওয়ারী এলাকা লকডাউন হচ্ছে

ওয়ারী এলাকা লকডাউন হচ্ছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রেডজোন এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জরুরি সভা ডেকেছে ডিএসসিসি’র মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারী এলাকাকে লকডাউন কার্যকরের জন্য এই সভা অনুষ্ঠিত হবে ডিএসসিসি’র সূত্র জানায়।

জানা গেছে, ওয়ারী এলাকায় রেডজোন চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ম্যাপিং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আজ সকাল ১০টায় বৈঠক ডেকেছেন দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ওয়ারী এলাকার ম্যাপিং পেয়েছি। এটি আমাদের দুটি ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। এ নিয়ে বুধবার সকাল থেকে আমরা কাজ করছি। আজ মেয়রের সভাপতিত্বে লকডাউন কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে পুলিশ, কাউন্সিলর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, এটুআই প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডাকা হয়েছে। আমরা এখন কীভাবে লকডাউন কার্যকর করবো সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। বৈঠকে কবে থেকে লকডাউন শুরু হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের মেয়র আগেই বলেছেন, আমাদের এলাকা ভিত্তিক ম্যাপিং করে দেয়ার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, আগামী পরশু দিন ও তার পরের দিন শুক্র ও শনিবার পড়েছে। ওই দুই দিন ছুটি থাকায় হয়তো সেটা হিসাব থেকে বাদ যেতে পারে। সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আমরা এলাকায় মাইকিং করে বিষয়টি জানিয়ে দেবো। লকডাউন এলাকায় মানুষের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, নমুনা সংগ্রহ, হোক কোয়ারেন্টিন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, টেলিমেডিসিন সার্ভিস, মৃতদেহ সৎকার, রোগী পরিবহন, হোম ডেলিভারি, লকডাউনের কারণে কর্মহীনদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটিসহ অন্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে কাজ করছি।

এর আগে গত মঙ্গলবার রেডজোনে লকডাউন বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রস্তুত আছে উল্লেখ ডিএসসিসি’র মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা প্রস্তুত, লকডাউন বাস্তবায়নে এলাকাভিত্তিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লকডাউন বাস্তবায়ন নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে এবং পরের দিনই আমরা কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয় সভা করেছি। আমরা আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি।

এর আগে গত ১৬ জুন নগরভবনে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়নবিষয়ক ডিএসসিসির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকা লকডাউন করতে পারব। কিন্তু এর আগে আমাদের সুনির্দিষ্ট ম্যাপিং পেতে হবে। আমরা আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট কোন এলাকা লকডাউন করতে হবে এটার তালিকা আমরা পেয়ে যাব। এরপর আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আমরা সেই নির্দিষ্ট এলাকা লকডাউন করতে পারব।

এর আগে আক্রান্তের হার বিবেচনায় করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি ঢাকার ৪৫টি এলাকাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে তা লকডাউনের সুপারিশ করেছিল। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি এলাকা রয়েছে। লকডাউনের জন্য রেডজোন হিসেবে তালিকায় থাকা ঢাকা উত্তর সিটির এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, উত্তরা, মিরপুর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে রেডজোনের জন্য সুপারিশকৃত এলাকার মধ্যে আছে- যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালী, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরীবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

সর্বাধিক পঠিত