spot_img
spot_img

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, রাত ৯:৫৩

প্রচ্ছদঅন্যান্যপ্রাথমিকে শিক্ষার মূল্যায়ন ষষ্ঠ শ্রেণিতে

প্রাথমিকে শিক্ষার মূল্যায়ন ষষ্ঠ শ্রেণিতে

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশু কতটুকু শিখল, তা নিয়ে এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে 'শিখন মূল্যায়ন' (লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট) করা হবে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজি- এই তিন বিষয়ে নমুনাভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হবে। নতুন মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেসব ঘাটতি পূরণে শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মূল্যায়ন পদ্ধতির গাইড লাইন তৈরি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) কাজ শুরু করেছে।

বেডুর পরিচালক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, 'ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী শেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠা শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩৩ শতাংশ বাংলায় এবং ২৫ শতাংশ গণিতে সঠিক জ্ঞাননির্ভর দক্ষতা অর্জন করতে পারছে। বাকি বড় অংশটাই তা পারছে না। তাই এটা এখন একটা বড় ইস্যু।' তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা, তা মূল্যায়ন ও বিশ্নেষণ করতে পারা, বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে শেখা এবং সে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারা। এটাই হলো শিখন মূল্যায়ন। তাই সরকার ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিখন মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগটি এখন একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে জাতীয়ভাবে কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করে এ মূল্যায়নের একটি গাইড লাইন চূড়ান্ত করা হবে। 

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, 'বিশ্বের সব দেশেই এ ধরনের লার্নিং আসেসমেন্ট চালু আছে; শুধু বাংলাদেশে নেই। শিক্ষার গুণগতমান অর্জনে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করব।' 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ মূল্যায়ন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবির কর্মকর্তাসহ শিক্ষাবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। 

গাইড লাইন তৈরির সঙ্গে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা জানান, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা কেমন শিখেছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে তার মূল্যায়ন হবে। এ মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেবে। তবে এতে শিক্ষার্থীর প্রাথমিক সমাপনী ও তার ফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদানের দুর্বলতা, শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, পাশাপাশি স্কুলের মধ্যে সমন্বয় কেমন- এসব বিষয় চিহ্নিত করা হবে। মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা বের করা হবে। 

কর্মকর্তারা আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নের আদলে এ মূল্যায়ন হবে না। প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণও বাধ্যতামূলক নয়। নমুনাভিত্তিক বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ একটি স্কুলে ২০ শিক্ষার্থী থাকলে সবার মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু যে স্কুলে ৬০ শিক্ষার্থী সেখানে সবাইকে না নিয়ে বাছাই করা ২০ শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা হবে। এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবে বেডু। বোর্ডগুলোর মতো মূল্যায়ন হবে নাকি, নিজ নিজ স্কুলের শিক্ষকরাই তাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবে- এসব এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে নিজ নিজ স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করলে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠতে পারে। সে কারণে বিকল্প ভাবছেন কর্মকর্তারা। শিক্ষকদের দুর্বলতা চিহ্নিত হলে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষক সংকট থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। 

বেডুর পরিচালক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাস করার পরও দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী মাল্টিপ্রিপারেশন জানে না। অথচ তৃতীয় শ্রেণিতেও তারা বিষয়টি পড়েছে। এই ঘাটতি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পাঠ্যবিষয় বুঝবে না। এটি কাটিয়ে উঠে কীভাবে নতুন বিষয় শেখানো যায়, সেটাই মূল্যায়নের আসল উদ্দেশ্য। প্রাথমিকের কারিকুলামে মোটা দাগে ২১টি বিষয় আছে। শিক্ষার্থীরা সেই জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছে কি পারেনি- এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও নির্বাচনী প্রশ্ন করা হবে।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত