spot_img
spot_img

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, রাত ৮:১৭

প্রচ্ছদঅন্যান্য১৬ জনের মৃত্যুতে ফিলিস্তিনে জাতীয় শোক পালন : ইসরায়েলি হামলায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

১৬ জনের মৃত্যুতে ফিলিস্তিনে জাতীয় শোক পালন : ইসরায়েলি হামলায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল জাতীয় শোক পালন করে ফিলিস্তিনিরা। হাজার হাজার লোক এ শেষকৃত্য আয়োজনে যোগ দেয়। বর্তমানে ইসরায়েলের অধিভুক্ত হয়ে যাওয়া পুরনো বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী চড়াও হলে ১৬ ফিলিস্তিন নিহত এবং শত শত আহত হয়। এদিকে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হত্যার ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। হামলায় আহত হয়েছে ১ হাজার দুইশতেরও বেশি।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের অধিকার ও ভূমি দিবস (ল্যান্ড ডে) উদযাপনের লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে গত শুক্রবার। সকাল থেকে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হতে থাকে নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। অনেকে সীমান্তের কাছাকাছি হাজির হয়। তাদের ফেরাতে গুলি শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে ড্রোনের সাহয়তায় নিক্ষেপ করা হয় কাঁদানে গ্যাস। ইসরায়েলি এই হামলায় এক বালকসহ ১৬ জন নিহত হন।

এ ঘটনার পর গতকাল নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠক করে। এখানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস একটি ‘নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের’ আহ্বান জানান। গাজা পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় বের করতে কুয়েতের অনুরোধে জরুরি বৈঠকটি ডাকা হয়। কিন্তু বৈঠকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উপস্থিত হতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা। এদিকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব টায়ে ব্রুক জেরিহুন বলেন, আগামী দিনগুলোতে গাজা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে মার্কিন ক‚টনীতিকরা বলেন, সব পক্ষের জন্য নিরপেক্ষ হওয়া নিরাপত্তা পরিষদের জন্য জরুরি। ফরাসি প্রতিনিধি বলেন, গাজায় সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এক লিখিত বিবৃতিতে এই সহিংসতার জন্য হামাসকে দায়ী করেন।

ইসরায়েলি দখলদারির প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হন। দিনটির স্মরণে প্রতিবছর পালিত হয় ‘ল্যান্ড ডে’। দিবসটির স্মরণে আয়োজিত ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়- যা শেষ হওয়ার কথা আগামী ১৫ মে ফিলিস্তিনি জনগণের মহাবিপর্যয় বার্ষিকী বা নাকবা দিবসে। ইসরায়েল ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ব্রিটিশ সহযোগিতায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং অস্ত্রের মুখে সাড়ে ৭ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে। সেই থেকে প্রতিবছর এ দিনটি নাকবা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত