spot_img
spot_img

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, সকাল ৮:৪৭

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদঅন্যান্যঅর্থপাচারের আশঙ্কা করছে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক : সতর্কতা জারি

অর্থপাচারের আশঙ্কা করছে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক : সতর্কতা জারি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পণ্য আমদানির আড়ালে অর্থপাচারের আশঙ্কা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক । এমন আশঙ্কা থেকে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এলসি খোলার ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক থাকার জন্য সম্প্রতি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি  শুল্ক কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। সরকারের এই দুই প্রতিষ্ঠান সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) ও এলসিএ (আমদানি করার অনুমতিপত্র) ইস্যু করতে বলা হয়েছে। আবার শুল্ক কর্তৃপক্ষকেও অ্যাসেসমেন্ট করার সময় বিষয়টি খেয়াল রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আমদানিনীতি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। এলসি ইস্যু করার সময় পণ্যটি আমদানি যোগ্য কিনা, এইচএস কোড ও মূল্য কী,  তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে হবে। এছাড়া এলসি ইস্যু করার সময় প্রকৃত বাজার দর যাচাই করে এলসি ইস্যু করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও আমদানি ব্যয় বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। চলতি অর্থবছরে প্রথম সাত মাসেই (জুলাই-জানুয়ারি) এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশের মতো। এদিকে, আমদানি ঋণপত্র বাড়ায় এ খাতে খরচও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। কিন্তু রফতানি ও রেমিট্যান্স সে অনুপাতে না বাড়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কিছু রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এজেন্ট ও সাব-এজেন্টের মাধ্যমে টাকা ও বিদেশি মুদ্রা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় অনেকে হুণ্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার করছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নানা উপায়ে অর্থপাচার বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবিদরাও। তাদের মতে, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেও অর্থপাচার বাড়ছে।

আর নির্বাচনের বছর স্বভাবতই অর্থপাচার বেশি হয়।’ ‘বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগই আমদানি-রফতানিতে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত বছরই পোশাক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে তুলা আমদানি ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও উৎপাদনে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।  বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক  ও  এনবিআরের খতিয়ে দেখা উচিত। অবশ্য ইতিবাচক দিক হলো—অর্থপাচার রোধে বাংলদেশ ব্যাংক ও এনবিআর একটি যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে।’

এদিকে আমদানির আড়ালে অর্থপাচারের কারণে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে ও বাজারে ডলার ছেড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এতে বেড়ে গেছে ডলারের দাম। ব্যাংকগুলো নগদ টাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। এতে একদিকে টাকার ওপর চাপ পড়ছে, অন্যদিকে ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি খরচও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৩৬ কোটি ডলার থেকে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে নেমেছে। ডলার-সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ডলার বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে একবছরে ডলারের দাম বেড়েছে চার টাকা। গত বছরের মার্চ মাসে এক ডলারের দাম ছিল ৭৮ টাকা, আর এ বছরের মার্চে তা বিক্রি হয়েছে ৮৩ টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) ডলার বিক্রি করেছে ৮২ দশমিক ৯৬ টাকায়। দেশের অন্য ব্যাংকগুলো ৮৪ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে। কার্ব মার্কেটে দাম আরও চড়া। খোলাবাজারে বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলার ৮৫ থেকে ৮৬ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত