spot_img
spot_img

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, সকাল ৯:২২

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদআলমডাঙ্গার হারদী শিক্ষানগরী হয়ে ওঠার গল্প
Array

আলমডাঙ্গার হারদী শিক্ষানগরী হয়ে ওঠার গল্প

আলমডাঙ্গার হারদী গ্রাম শিক্ষানগরী হয়ে উঠতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন রূপকথার গল্প হয়ে দেখা দিয়েছে। একটি মাত্র নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার আলো ছড়াতে ছড়াতে গ্রামটি এখন শিক্ষানগরীর নাম পেয়েছে। মোট ২৭ একর জমির ওপর একে একে ৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। গ্রামটি হয়ে উঠেছে শিক্ষানগরী।

আলমডাঙ্গা শহর থেকে পাঁচ মাইল ভেতরে অবস্থিত হারদী গ্রামে আশির দশকে প্রথমে একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলে গ্রামবাসী। হারদী ইউপির তরুন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মানু আততায়ীর গুলিতে নিহত হলে ৮৭ সালে স্কুলটির সভাপতির দায়িত্ব পান বর্তমানের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। এ সময় লন্ডন প্রবাসী মীর শামসুজ্জোহার বাবা স্কুল শিক্ষক মীর শামসুদ্দিন আহমেদ তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় ২ একর ৬০ শতক জমি স্কুলটিকে দান করে দেন। এ সময়টিতেই নিম্ন থেকে মাধ্যমিকের কাজ শুরু করা হয়। হারদী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মীর শামসুদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়।

শামসুদ্দিন আহমেদ মারা গেলে ৯০ সালে এগিয়ে আসেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান লন্ডন প্রবাসী দানবীর মীর শামসুজ্জোহা। তিনি ১৩ হাজার স্কয়ার ফিট বিশিষ্ট ১০ রুমের একটি ভবন করে দেন। ৯৩ সালের দিকে নুরুল ইসলাম গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে মীর শামসুজ্জোহাকে অনুরোধ করে একটি কলেজ নির্মান করতে বলেন। তিনি রাজি হন। এমএস জোহা নামকরণ দিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
 

কলেজটি ১৯৯৫ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রী কলেজে রূপান্তরিত হয়। মীর জোহা কলেজটিকে ১৪ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি দ্বিতল ভবন নির্মান করে দেন। এখন সেই কলেজটিতে শিক্ষার্থীদের ৬ টি বিষয়ে অনার্স পড়ানো হয়। কিন্ত এই দানবীর মীর শামসুজ্জোহা সবাইকে কাঁদিয়ে ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

তৃতীয় ধাপে এগিয়ে আসেন মীর শামসুজ্জোহার ছোট ভাই মীর সামসুল ইসলাম। তিনি নারী শিক্ষা বিস্তার করতে তাঁর স্ত্রী নারগীস ইসলাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন। মীর সামসুল ইসলামকে সাথে নিয়ে নুরুল ইসলাম ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন এমএস জোহা কৃষি কলেজ। কলেজটি ৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এরপর ২০০৫ সালে মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০১০ সালে মীর শামসুজ্জোহার মৃত সন্তানের নামে নিপ্পন জোহা টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে ৬ টি ট্রেড অনুমোদন লাভ করে। ১৫ সালে এমএস জোহার মেজ ভাই এমএস হুদার ইন্সটিটিউশনাল মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন লাভ করে।

এছাড়া এমএস জোহা কৃষি কলেজের অধীনে চার বছরের ডিপ্লোমা ইন ফিশারিজ কোর্স চালু রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন এ্যানিমেল ও পোল্ট্রি নার্সিংয়ের ওপরও এক বছরের কোর্স চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

পরবর্তীতে এমএস জোহা ডিগ্রী কলেজ বাদে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিপ্পন জোহা এডুকেশন কমপ্লেক্সের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে রয়েছে একটি মসজিদ, ক্যান্টিন, ও দর্শনীয় একটি শহীদ মিনার। রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ। পুরো জমিতে প্রকৃতির নানা বর্ণের গাছগাছালীর ফাঁকে গড়ে তোলা হয়েছে একেকটি প্রতিষ্ঠান।

হারদী শিক্ষানগরীর এই কমপ্লেক্সের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন হারদী ইউপির তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী নুরুল ইসলাম।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত