spot_img
spot_img

বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, সকাল ৬:৪০

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদপ্রভিশন ঘাটতিতে ৯ ব্যাংক
Array

প্রভিশন ঘাটতিতে ৯ ব্যাংক

এক বছর আগের তুলনায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ১২ হাজার কোটি টাকা বাড়লেও তিন মাসের ব্যবধানে কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে খেলাপী ঋণ কমার প্রভাব নেই নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে। ডিসেম্বর শেষে ৯ ব্যাংকে ৯ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিন মাস আগে সাত ব্যাংকের ঘাটতি ছিল আট হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। এবার নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক ও বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোন লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না। এতে নিরুৎসাহিত হন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া এ সময়ে যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোন প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ঋণের শ্রেণীমান বিবেচনায় প্রতি ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত হারে প্রভিশন রাখতে হয়। সাধারণ ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন রাখার নিয়ম রয়েছে। আর যথাসময়ে আদায় না হওয়া নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ বা ক্ষতি মানে শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে যথক্রমে ২০, ৫০ ও ১০০ ভাগ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফা থেকে এ অর্থ রাখার নিয়ম রয়েছে। সাধারণ নিয়মে প্রভিশন ঘাটতি রেখে লভ্যাংশ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক ধাপে ধাপে প্রভিশন রাখার সুযোগ নিয়ে লভ্যাংশ দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রভিশন ঘাটতির শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘাটতি বেড়ে তিন হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা হয়েছে। তিন মাস আগে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। আরেক আলোচিত ব্যাংক বেসিকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক ব্যাংক রূপালী এক হাজার ৮১ কোটি টাকার ঘাটতিতে রয়েছে। ঘাটতির তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হওয়া বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা। বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঘাটতির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৬৭ কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৮৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৭৫ কোটি টাকা হয়েছে। ব্যাংকটির খেলাপী ঋণ ছয় মাস আগের ৫০৫ কোটি টাকা থেকে ডিসেম্বর শেষে খেলাপী ঋণ বেড়ে হয়েছে ৯৩৫ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৮৬২ কোটি টাকা থেকে কমে ১৬০ কোটি টাকায় নেমেছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি আগের মতোই ১৯৫ কোটি টাকা রয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঘাটতি ১৫৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৭৯ কোটি টাকায় নেমেছে।

 
জানতে চাইলে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আগের প্রান্তিকে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকৃত বড় একটা ঋণ ডিসেম্বর প্রান্তিকে মন্দমানে শ্রেণীকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশের কারণে খেলাপী দেখানো যাচ্ছে না এ ধরনের ঋণের বিপরীতেও ব্যাংকটি যথাযথ মানে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে এ রকম হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপীতে পরিণত হয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপী ঋণ বৃদ্ধির কারণেই প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে। আর ব্যাংকগুলোকে আয়ের খাত থেকে অর্থ এনে এই প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বঞ্চিত হন। এছাড়া যেসব ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, খেলাপীঋণ বেশি হলে ঋণের সুদও বাড়ে। এতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সাল শেষে সরকারী-বেসরকারী মিলে ৯ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে সরকারী খাতেরই সাতটি। এগুলো হলো সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। তাদের মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। সরকারী ব্যাংকগুলোর বাইরে মূলধন ঘাটতির তালিকায় ছিল ২টি বেসরকারী ব্যাংকও। এগুলো হলো-বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত