spot_img
spot_img

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, সকাল ৯:০২

প্রচ্ছদনেপালে বিমান দুর্ঘটনা: ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই পাওয়া যাবে বীমার টাকা
Array

নেপালে বিমান দুর্ঘটনা: ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই পাওয়া যাবে বীমার টাকা

নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আগামী এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই  বীমার টাকা দেওয়া শুরু হবে। এদিকে, নিহতদের মধ্যে কারও পরিচয় নিশ্চিত হতে দেরি হলে বা উত্তরাধিকার নির্ধারণ নিয়ে কোনও সমস্যা সৃষ্টি হলে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে। যদিও  তারা কত টাকা করে পাবেন, সে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীম  বলেন, ‘আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কেউ যেন বীমার টাকা হাতে পায়, আমরা সেভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পরিবার কে কত টাকা করে পাবেন, সে ব্যাপারে এখনই কোনও কিছুই বলার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের বীমানীতি শতভাগ মেনে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স লন্ডন মার্কেটের সবচেয়ে বড় বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুনঃবীমা করেছে। যেটি পৃথিবীর সব চেয়ে পরিচিত (রিনাউন) প্রতিষ্ঠান বলে খ্যাত।’

জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে নিহত, আহত বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা আন্তর্জাতিক ওয়ারস কনভেনশন আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাবেন। ব্যক্তির আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা, বয়স, পরিবার ও ক্ষতির পারিপার্শিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে থাকে। 

এদিকে বিমানটির দেশি-বিদেশি দু’টি বীমা প্রতিষ্ঠানে ইন্স্যুরেন্স থাকায় দুর্ঘটনার পরই তদন্তে নেমেছে এক্স এল ক্যাটলিন ও লয়েড লন্ডনের নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞ দু’টি লস অ্যাডজাস্টার প্রতিষ্ঠান। ম্যাকলরেন্স এভিয়েশন লিমিটেড ও এইচএফডাব্লিউ (হলম্যান ফেনউইক উইল্যান) নামের আন্তর্জাতিক মানের এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীম জানান, ‘অচিরেই প্রতিষ্ঠান দু’টির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বীমার টাকা পাবেন।’ তিনি উল্লেখ করেন,  ‘দুর্ঘটনার দিনই একদল লস অ্যাডজাস্টার (তদন্ত কর্মকর্তা) ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরদিন পৌঁছেছে আরেকটি লস এডজাস্টার দল। সেখানে তারা ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছে।’

বিমান দুর্ঘটনার পরপরই বীমা দাবি করে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিরপূরণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে নিহতদের পুর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া শুরু করেছে। প্রত্যেক পরিবারের বৈধ ওয়ারিশদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম (গণসংযোগ)  বলেন, ‘বীমা প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সবার সামাজিক বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অচিরেই বৈধ ওয়ারিশদের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করা হবে।’

জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিবে মূলত ইউএস-বাংলা। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থ সহায়তা দেবে বীমা প্রতিষ্ঠান। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই বীমার টাকা পেতে পারেন সে জন্য দেশের সাধারণ বীমা করপোরেশন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কর্মকর্তারাও কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বীমার টাকা পেতে পারেন, সে ব্যাপারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখছে। সব পক্ষের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

জানা গেছে, লন্ডনের সবচেয়ে বড় বীমাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সএল ক্যাটলিনের সঙ্গে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পুনঃবীমা করেছে। পুনঃবীমা ব্রোকার কে এম দাস্তুর অ্যান্ড কোং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুনঃবীমা করেছে। পুনঃবীমার আরেকটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশের সাধারণ বীমা করপোরেশন।

এ প্রসঙ্গে সাধারণ বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহরিয়ার আহসান বলেন, ‘ইউএস বাংলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা বীমার টাকা পাবেন। লস অ্যাডজাস্টার বা সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা ইউএস বাংলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কে কত টাকা করে পাবেন, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে কাভার নোট অনুযায়ী যাত্রীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার বা এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।’

এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এর টিকেটের শর্তে অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বা তাদের পরিবার সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার বীমা দাবি পাতে পারেন বলে মনে করছেন, এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস’র টিকেটের শর্তে ওয়ারসো কনভেনশন নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’

ওয়ারস কনভেনশনের সর্বশেষ সংশোধনী অনুসারে, একজন বিমান যাত্রীর মৃত্যু অথবা ব্যক্তিগত আঘাতের ক্ষেত্রে ১ লাখ ইউএস ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। ওয়ারস কনভেনশনের প্রথম সংশোধনী করা হয়, ১৯৫৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হেগ প্রটোকলে। সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ গুয়েতেমালা সিটি প্রোটকলে সংশোধনীতেও যাত্রীদের জন্য এ সুবিধা বহাল রাখা হয়।

ইউএস বাংলার ওয়েবসাইটে দেওয়া টিকিটের টার্ম ও কন্ডিশনেও বলা হয়েছে, যাত্রীদের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ১৯২৯ সালের ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওয়ারসো কনভেনশন অথবা ১৯৫৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হেগে ওই কনভেশনটির যে সংশোধন আনা হয়, এর যেকোনোটি কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, বেসরকারি আইন একীভূতকরণে অনুষ্ঠিত সফল কনভেনশনগুলোর একটি ওয়ারসো কনভেনশন। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বিশ্বের ৯৯টি দেশে কার্যকর। এমনকী বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলেও এসব বিধি মেনে চলে সরকার। ১৯২৯ সালের ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওয়ারসো কনভেনশন এবং ১৯৫৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হেগে অনুষ্ঠিত কনভেশনটি বাংলাদেশ মেনে চলার ঘোষণা করে স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত