spot_img
spot_img

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, সকাল ৭:৫৬

প্রচ্ছদটিন টিন প্রেম
Array

টিন টিন প্রেম

সানিয়া (ছদ্মনাম) পড়ছে নবম শ্রেণিতে। কিছুদিন ধরে তার স্কুলের দশম শ্রেণির নাইমের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এমনিতে মুখচেনা ছিল। স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে দুজনের অনেক কথা হয়েছে। বন্ধুত্ব হয়েছে। এরপর থেকে একজন আরেকজনকে বেশি বেশি পছন্দ করা শুরু করেছে। দুজনে কাছাকাছি থাকলে তাদের মনের মধ্যে কেমন একটা বিদ্যুৎ ঝিলিক দিয়ে যায়। মনে হচ্ছে প্রেম হয়ে গেছে!

বয়ঃসন্ধিকাল বা কৈশোরে এমন ধারার ভালো লাগা কাজ করতে পারে। এগুলোর কোনো কোনোটি প্রেমে পরিণত হয়। টিনএজ বা ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সের এই সময়টাতে শরীর ও মনের নানান পরিবর্তন ঘটে। ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোন, এন্ডোরফিন, নরএপিনেফ্রিন, ডোপামিন, সেরোটনিনসহ মস্তিষ্কের বেশ কিছু রাসায়নিক উপাদান (নিউরোট্রান্সমিটার) আবেগের নানামুখী পরিবর্তন ঘটায়। ফলে বিপরীত লিঙ্গের দুজন মানুষের মনের মধ্যে ঘটে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া; একজন আরেকজনের প্রতি বিশেষ টান অনুভব করে।

প্রেম বা ভালোবাসার তিনটি মূল উপাদান—অন্তরঙ্গতা (ইন্টিমেসি), উচ্ছ্বাস (প্যাশন) আর দায়বদ্ধতার (কমিটমেন্ট) কোনো কোনোটি তাদের মধ্যে তৈরি হয়। হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটারগুলোর প্রভাবে দুজন টিনএজার বা কিশোর-কিশোরীর মধ্যে জন্ম নেয় পরস্পরের প্রতি তীব্র টান। এই টান যে সব সময় প্রেমে পরিণত হয় তা নয়, অনেক সময় দেখা যায় উচ্ছ্বাসের কারণে অন্তরঙ্গতা বাড়ছে কিন্তু পরস্পরের মধ্যে কোনো দায়বদ্ধতা নেই; ফলে তা সত্যিকারের প্রেমে পরিণত হতে পারে না। নিছক ভালো লাগা, ক্র্যাশ খাওয়া বা মোহ তৈরি হয়।

কম বয়সে আবেগগুলো থাকে এলোমেলো। হঠাৎ করেই একজনকে দারুণভাবে ভালো লাগতে থাকে। মনে হয় তাকে ছাড়া জীবন অর্থহীন। সব যুক্তি, বাস্তবতা আবেগের কাছে হেরে যায়। প্রেমময় আবেগ যেমন উথলে ওঠে, তেমনি ক্রোধ, হিংসা ইত্যাদি আবেগগুলোর প্রকাশভঙ্গি হয় অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিত। তাই পছন্দের মানুষকে পুরো নিজের করে পেতে চায়। এ সময় যদি তৃতীয় কেউ পছন্দের মানুষের মনে ঠাঁই করে নেয় বা কোনো কারণে সম্পর্কটি ভেঙে যায়, তখন ক্রোধ আর হিংসা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। এ সময় আবেগকে সামলে রাখা খুবই জরুরি। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ভয়াবহতম সিদ্ধান্ত নিতে পারে টিনএজ মন। প্রতিপক্ষকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে বা তাকে জন্মের মত শায়েস্তা করতে গিয়ে নানা পন্থা বেছে নেয়। কখনো তৈরি করে কিশোর গ্যাং। দলবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে ফেলে! তাই এই বয়সে অবশ্যই আবেগকে সংযত করতে হবে।

কিশোরবেলায়, টিনএজার ছেলেমেয়েদের মধ্যে আবেগের সম্পর্ক মোটেই অস্বাভাবিক নয়। এই বয়সে শারীরিক আর মানসিক পরিবর্তনের কারণে পরস্পরের প্রতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। বাবা-মায়েরা, স্কুলশিক্ষকেরা বেশির ভাগ সময় কমবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই সম্পর্ককে বড় ধরনের অপরাধ বলে মনে করেন। উত্তেজিত হয়ে বাধা দিতে চান। বিষয়টিকে ব্যাখ্যা না করে, তাদের বুঝিয়ে না বলে, সম্পর্কটা আসলেই প্রেম কি না, তা না বুঝে উত্তেজিত হলে টিনএজাররা কিন্তু মানসিকভাবে আঘাত পাবে। অভিভাবক আর শিক্ষকদের এই বিষয়টিতে সতর্কতার সঙ্গে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত