spot_img
spot_img

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, সকাল ৬:১০

প্রচ্ছদঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বসবাসে বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থী
Array

ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বসবাসে বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থী

যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি জড়িত চুরি, ছিনতাইয়ে, হেনস্তার শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ভাসমান বহিরাগত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সংগঠিতভাবে ক্যাম্পাসে তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ক্যাম্পাসের কয়েকটি পয়েন্ট ভাসমান মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এর মধ্যে মলচত্বর, টিএসসি হাকিমচত্বর, মিলনচত্বর, ডাচ চত্বর উল্লেখ্যযোগ্য। এসব স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী ও তাদের সন্তানরা স্থায়ীভাবে বসবাস করে। ফুল, মালা ও চকলেট বিক্রি এবং ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তারা  উপার্জন করে। খাওয়া, গোসল, ঘুম, মল-মূত্র ত্যাগ সবই তাদের ক্যাম্পাসের মধ্যে। এসব ছিন্নমূল মানুষ চুরি, ছিনতাই, মাদক বিক্রিসহ নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মলচত্বর, কলাভবন প্রাঙ্গণ, বটতলাসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা গ্রুপ স্টাডি, আড্ডা ও  দেওয়ার জন্য বসে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর হকার ও ভিক্ষুকরা এসে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট করে। ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করা ছিন্নমূল শিশুরা শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তারা ছাত্র-ছাত্রীদের  নানাভাবে হেনস্তা করে।

প্রিয়দর্শিনী শায়লা নামে এক ছাত্রী জানান, কিছুদিন আগে তিনি কলাভবনের সামনে বসেছিলেন। হঠাত্ একটি শিশু এসে তার কাছে টাকা দাবি করে। কিন্তু ভাংতি টাকা না থাকায় দিতে পারবে না বললে ওই শিশু তার পা ধরে বসে থাকে। টাকা না দিলে সে যাবেই না। চার-পাঁচ মিনিট পা ধরে বসে থেকে লাভ হচ্ছে না দেখে শিশুটি তার হাতে ঘুষি দিয়ে দৌড়ে পালায়। ক্যাম্পাসে অসংখ্য শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন।

যুথী মেহজাবীন নামে আরেক ছাত্রী বলেন, তারা তিন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় একটি কন্যা শিশু এসে পাঁচ টাকার জন্য তাদের নানাভাবে বিরক্ত করে। এ সময় তার (যুথী) এক বন্ধু শিশুটিকে বকা দিলে সে তাকে মেরে দৌড় দেয়। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় বন্ধু-বান্ধবের সামনে লজ্জায় পড়তে হয়।

শুধু এটা নয় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব ছিন্নমূলদের অনেকের কাছেই পাওয়া যায় হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। যা তারা ভিন্ন এক সাংকেতিক কথার মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম তাদের আটক করে সত্যতা পেয়েছে।  দুই মাস আগে ক্যাম্পাসে ভিসি চত্বরে এক ছাত্রীর ব্যাগ থেকে ফোন চুরির সময় হাতেনাতে তিন শিশু ধরা পড়ে। পরে তাদের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করা হয়।

মল চত্বরে কথা হয় এক ছিন্নমূল নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে তিনি মালা বিক্রি করেন।

ক্যাম্পাসে ছিন্নমূল মানুষের স্থায়ী ও অবাধ বিচরণের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, ক্যাম্পাসে ছিন্নমূল মানুষ থাকবে কেন? আমরা প্রক্টরিয়াল টিমকে এসব বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিব। ক্যাম্পাস সার্বিকভাবে পরিচ্ছন্ন করার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
 

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত