spot_img
spot_img

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, সকাল ৭:০৫

প্রচ্ছদউন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সরকারের সজাগ দৃষ্টি প্রয়োজন
Array

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সরকারের সজাগ দৃষ্টি প্রয়োজন

লডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য দরকার সরকারের সজাগ দৃষ্টি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এজন্য রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে দক্ষজনশক্তি বাড়ানো, অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগ, নতুন বাজার সম্বন্ধে ধারণা, পারস্পারিক বাণিজ্য বাড়তে এফটিএর মতো চুক্তির দিকে যেত হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)। 

বুধবার বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উদযাপন এবং আগামী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্লাস্টিক সেক্টরের করণীয় এবং কর্মসূচী নিয়ে বিপিজিএমইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। বিপিজিএমইএর সভাপিত জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিপিজিএমইএর সভাপতি সাবেক সভাপতি ইউসুফ আশরাফ, শাহেদুল ইসলাম হেলাল, সামিম আহমেদ, সিনিয়ন সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন, সৈয়দ তাহসিন হক, পরিচালক শাহজাহান, এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারব। আমাদের আত্মতুষ্টির কোন অবকাশ নেই। বর্তমানে পৃথিবীতে ১৯৫ দেশের মধ্যে ৪৭টি দেশ এলডিসি। সব দেশ তার উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখছে। আমরা উপরোক্ত উপাত্ত থেকে বুঝতে পারি বাংলাদেশ সঠিকভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর এই উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। প্রাইভেট সেক্টর যথাযথ ভূমিকা না রাখলে আমরা এই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতাম না। স্মরণ রাখতে হবে ১৯৬০ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৬ মার্কিন ডলার।

সে সময় চায়না, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার আয়ের কাছাকাছি ছিল কিন্তু আজকে তারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আমরা ১ ধাপ এগুলে তারা তিন ধাপ এগিয়ে যায়। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১৯৫টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১৩৯তম এবং এশিয়ার ৪৭টি দেশের মধ্যে ৩৯তম। অতএব আমাদের আরো সঠিক প্লানিং করে এগুতে হবে। তবে আশার কথা হলো যদি বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে তবে বাংলাদেশ ২০৫০ সালে ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উদ্যাপন উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচীর আলোকে বিপিজিএমইএ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে অনেক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই সামনে এগুতে পারলে আমরা কাক্সিক্ষত অবস্থায় পৌঁছাতে পারব। আমরা মনে করি দেশের একটি উল্লেখযোগ্য সেক্টর হিসেবে প্লাস্টিক সেক্টর অতীতের মতো আগামীতে ভূমিকা রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্লাস্টিক খাতের বিস্তৃতি ঘটছে-বাড়ছে ভোক্তা সাধারণ। প্লাস্টিক পণ্য দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি হচ্ছে। প্লাস্টিক খাত থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপর রফতানি হচ্ছে। আগামী দিনে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৫ থেকে বেড়ে হবে ৫০ কেজি এবং রফতানিও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। প্লাস্টিক এ্যাসোসিয়েশন প্লাস্টিক সেক্টরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্বায়নের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রফতানি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও উদারীকরণ করতে নি¤েœাক্ত ব্যবস্থান সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। যেমনÑ রফতানি পণ্যের আন্তর্জাতিক গুণগত মানসনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা; রফতানি পণ্যের আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা; সংশ্লিষ্ট সকল রফতানি পণ্য খাতে রেয়াতি হারে অর্থায়ন করা এবং ফ্যাক্টরিং সার্ভিসকে কার্যকর করা এবং    রফতানি বৃদ্ধির সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সকল রফতানি পণ্য খাতে রেয়াতি হারে বিদ্যুত, পানি, গ্যাস সরবরাহের সংস্থান করা। একক এবং রফতানিমুখী গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাতভিত্তিক যৌথ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সুবিধা প্রদান করা।

রফতানি পণ্য প্রস্তুতকরণে ব্যবহৃত আমদানিকৃত এবং দেশীয় উপকরণের ওপর পরিশোধিত সকল শুল্ক ও কর মওকুফ গণ্য করে ফেরত প্রদান করা। সংশ্লিষ্ট সকল রফতানি পণ্য খাতে রেয়াতি হারে অর্থায়ন করা এবং ফ্যাক্টরিং সার্ভিসকে কার্যকর করা। রফতানি অর্থায়নের জন্য রেয়াতি হারে মূলধনী ঋণ এবং এল/সি’র বিপরীতে ঋণ সুবিধা প্রদান করা। ইডিএফের বর্তমান ১ মিলিয়ন ইউএস ডলারকে বাৎসরিক ৩০% হারে উন্নীত করে সকল রফতানিকারককে উক্ত ফান্ড ব্যবহারের মাধ্যমে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ প্রদান করা। রফতানিমুখী গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটেল ফান্ড হইতে অর্থায়ন করা। রফতানি বৃদ্ধির সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সকল রফতানি পণ্য খাতে রেয়াতি হারে বিদ্যুত, পানি, গ্যাস সরবরাহের সংস্থান করা। বিদেশে প্রদর্শনী বা মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য সহায়তা ও সুযোগ সুবিধাদি কার্যকর করা।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত