spot_img
spot_img

বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, রাত ১:১৬

প্রচ্ছদফ্রান্সের সুপার শপে জিম্মিদশার অবসান, হামলাকারীসহ নিহত ৩
Array

ফ্রান্সের সুপার শপে জিম্মিদশার অবসান, হামলাকারীসহ নিহত ৩

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ট্রিবিসের একটি সুপার শপে ঢুকে পড়ে কয়েকজনকে জিম্মি করার ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই ঘটনায় হামলাকারী ছাড়াও অন্তত দুজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১.১৫ মিনিটের দিকে হামলাকারী ওই সুপার শপে ঢুকে পড়ে। ওই হামলার আগে কাছের আরেকটি শহরে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি ট্রিবিসের সুপার শপের কাছে খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। স্থানীয় প্রসিকিউটর এই হামলার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে দায়ী করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ট্রিবিসের ইউ সুপারশপের হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেছে ফ্রান্সের কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে সেখানে নিহতের সংখ্যা দুইজন বলে জানিয়েছেন। তবে লোকাল ফ্রান্সের খবরে বলা হয়েছে পুলিশের গুলিতে সুপারশপে হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। সংবাদমাধ্যমটি বলছে হামলাকারীকে মরোক্কো বংশদ্ভূত ফরাসি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। উগ্রবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় পুলিশের  তালিকায় ছিল সে।

লোকাল ফ্রান্সের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে কারকাসানো শহরে ড্রাইভারকে আঘাত করে একটি গাড়ি ছিনতাই করে ওই হামলাকারী। পরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্সণ করে ট্রিবিস শহরের ওই সুপারশপে ঢুকে পড়ে।

সে সময়ে ওই সুপারশপে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী ফ্রান্স ইনফোকে জানিয়েছেন, এক লোক চিৎকার করছিল আর গুলি করা শুরু করলো। আমি হিমাগারের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়ি। আমরা অন্তত দশজন সেখানে এক ঘণ্টা আটকে ছিলাম। পরে পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে আসি। ওই হামলাকারী আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করছিল তবে তাকে দেখতে পাইনি।ফরাসি সংবাদপত্র লা দেপেচে দু মিদির খবরে বলা হয়েছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী সশস্ত্র হামলাকারীর সঙ্গে এক বা একাধিক গ্রেনেড ছিল। আর তিনি ‘সিরিয়ার প্রতিশোধ’ চান বলে চিৎকার করেছেন।

বেলা দুইটার দিকে ওই হামলাকারীকে নিরস্ত্র করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তার গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে হামলাকারী মাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসেছে পুলিশ।

দেশটির কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের প্রসিকিউটর জানিয়েছেন,এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সশ্রস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস  জড়িত বলে ধারণা করছেন তিনি।

২০১৫ সালের পর থেকে বেশ কয়েকবার জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে ফ্রান্স। সে বছরের নভেম্বরে প্যারিসে এক হামলায় ১৩০ জন নিহত হলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ওই মাসেই ফ্রান্সের বন্দর নগরী মার্সেইর রেলস্টেশনে ছুরি হাতে ৩০ বছর বয়সী এক আফ্রিকান নাগরিক হামলা চালালে দুই নারী নিহত হয়। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ওই হামলাকারীকে নিজেদের সদস্য বলে দাবি করে।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত