spot_img
spot_img

সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, সকাল ৭:৪৯

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদ৫ সিটি করপোরেশনে ভোটের হাওয়া
Array

৫ সিটি করপোরেশনে ভোটের হাওয়া

তফসিল ঘোষণা এখনো বাকি অথচ খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল- দেশের এ ৫ সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। আসছে ঈদুল ফিতরের আগে খুলনা ও গাজীপুর এবং ঈদের পর বাকি ৩ সিটিতে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তফসিল ঘোষণা ও প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীদের প্রচারের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ইসি। তবে তারা নির্বাচনী নীতি ভঙ্গের বিষয়ে স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েই খালাস।

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী ৩১ মার্চ। কিন্তু ইতোমধ্যে জমে উঠেছে এ দুটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে মনোনয়ন নিশ্চিতের জন্য দলীয় হাই কমান্ডে ধর্না দিচ্ছেন; অন্যদিকে প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন ভোটারদের মনোরঞ্জনে। কমিশনের নির্বাচনী বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিটি করপোরেশন এলাকার আনাচে-কানাচে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানার। প্রার্থীরা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও বিয়েবাড়িসহ নানা পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছেন। ভোটাররাও কম যান না। চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের চুলচেরা বিশ্লেষণে। বিশেষ করে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ছোটাছুটি শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া শহরের মোড়ে মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত পোস্টার ও বড় বড় ব্যানার দিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেমন বোঝানের চেষ্টা করছেন তিনিই দলীয় প্রার্থী। তেমনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার টানিয়ে ভোট চাচ্ছেন। বাদ নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারাও নানা উপায়ে ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দেশের এ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই দল থেকেই প্রার্থিতার দৌড়ে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে মূল আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্যাহ ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক ও শেখ পরিবারের সদস্য শেখ জুয়েল। শেখ জুয়েল বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলালের ভাই। তবে এ বিষয়ে এমপি তালুকদার আবদুল খালেক ভোরের কাগজকে বলেন, আমি সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে চাইনি। এ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হচ্ছি না। যদিও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনার রশীদ বলেছেন, সিটি করপোরেশনে কে প্রার্থী হবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও বর্তমান বাগেরহাট ৩ আসনের এমপি তালকুদার আবদুল খালেক, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় নেতা সৈয়দ আলী ও এডভোকেট আনিসুর রহমান ফকলু। শেষ পর্যন্ত কে হবেন প্রার্থী তা নির্ভর করছে হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। আবার কোনো কোনো মহল মনে করেন, শেখ হেলাল উদ্দীন বা তার ভাই শেখ জুয়েল সিটির মেয়র প্রার্থী হবেন। এ বিষয়টি দলের জেলা সভাপতি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। যদিও অনেকেই নিজ নিজ পক্ষে বিভিন্নভাবে প্রচারণায় শামিল রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুয়েকজন নেতা জানান, তালুকদার খালেককে শেখ হাসিনা পছন্দ করেন। কেননা, বিএনপিকে পরাজিত করতে তিনিই যোগ্য প্রার্থী। আবার খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবার সিটি মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। তিনিও জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপির অনেকেই মনে করেন বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি এবারও মনোনয়ন পাবেন।

এ দিকে তফসিল ঘোষণার আগেই গাজীপুরেও সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিএনপির আবদুল মান্নান মেয়র হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দলের অনেকেই মনে করেন তিনিই এবারও প্রভাবশালী প্রার্থী। গাজীপুর সিটি করপোরেশন বিএনপির অধীনে রাখতে হলে তার বিকল্প নেই। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ায় দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার দলীয় নীতি-নির্ধারকদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন বলে অনেকে জানিয়েছেন।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান মিলন ভোরের কাগজকে জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা নীতিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কিন্তু বিএনপি হাইকমান্ড নির্বাচনে যাবে কি যাবে না তা ৩০ মার্চের মধ্যে ঠিক হবে। তারপর কে কে প্রার্থী হতে চান তা জানতে চাইব। তার মধ্যে থেকে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। তবে বর্তমান মেয়র আবদুল মান্নান এখনো বেশ জনপ্রিয় বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খানই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। তিনি ও তার সমর্থকরা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আজমত উল্লাহ খানের পক্ষে ভোট ও দোয়া চাইছেন বলে জানা গেছে। তবে জাহাঙ্গীর আলমও এখানে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছেন।

এ দিকে ভোটের হাওয়া লেগেছে দেশের অন্য ৩ সিটি করপোরেশনেও। সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির একাধিক প্রার্থী অনেকটা প্রকাশ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামী বুধবার (২৮ মার্চ) কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করেছে আওয়ামী লীগ। ওই দিন সন্ধ্যায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে এ সভা হবে। সিটি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা ছাড়াও ওই সভায় সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হবে। তবে দলীয় মনোনয়নের শিকে কার ভাগ্যে ছিড়বে- তা নিশ্চিত না হলেও ভোটযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে আগেভাগেই।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত