spot_img
spot_img

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, রাত ৯:২৮

প্রচ্ছদচোখের ছানি অপারেশন করতে গিয়ে ২০ জন রোগীর চোখ হারানোর
Array

চোখের ছানি অপারেশন করতে গিয়ে ২০ জন রোগীর চোখ হারানোর

চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক হাসপাতালে চোখের ছানি অপারেশন করতে গিয়ে ২০ জন রোগীর চোখ হারানোর ঘটনা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। একইসঙ্গে এটি অপরাধও বটে। এজন্য অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাটাও জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল আই কেয়ারের ভারপ্রাপ্ত লাইন ডিরেক্টর অবশ্য বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের কী ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতে পারে, তা নির্ধারণের পাশাপাশি দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে একটি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল আই কেয়ারের পক্ষ থেকে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল কি বড় কোনো শাস্তি? একথা সর্বজনবিদিত, সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশে লাগামহীনভাবে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদি গড়ে উঠেছে এবং এগুলোর বেশিরভাগের মালিকানার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক ও চিকিৎসক নেতারা সম্পৃক্ত রয়েছেন।

লাইসেন্স বাতিল হলে ভিন্ন নামে আরেকটি লাইসেন্স জোগাড় করা কি তাদের জন্য কঠিন কিছু? কাজেই এমন ব্যবস্থা নেয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বস্তুত দেশে সাধারণ মানুষের চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেখা গেছে, বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের নামে লেন্স বাণিজ্য, চিকিৎসকের পরিবর্তে সহকারী দিয়ে অপারেশনসহ অন্যান্য কারণে প্রায়ই রোগীদের চোখ হারাতে হচ্ছে। সরকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের কথা জোরেশোরে প্রচার করলেও তা যে ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’, চুয়াডাঙ্গায় চোখের ছানি অপারেশন করতে গিয়ে ২০ জন রোগীর চোখ হারানোর ঘটনায় তা পরিস্ফুট হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য খাতে অর্জিত সরকারের সাফল্য নিয়ে মানুষের মনে দোলাচলের সৃষ্টি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
দুঃখজনক হল, সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও আন্তরিকতা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবাকে যুগোপযোগী ও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। এজন্য স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান অনিয়ম, দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থের অপ্রতুলতাও একটি কারণ। স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু ৫৪ ডলার অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) যে তাগিদ রয়েছে, তার ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের বড় অংশই সাধারণত অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিত্যনতুন উদ্ভাবন, সংযোজন ও ন্যূনতম সেবার নিশ্চয়তা বিধানে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে খুবই কম।

এ প্রবণতা স্বাস্থ্য খাতের জন্য টেকসই নয়, তা বলাইবাহুল্য। সরকার অবশ্য হেলথ সেফটি নেটওয়ার্কের আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র , উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদির মাধ্যমে দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের চেষ্টা করছে। তবে সেখানে স্বাস্থ্যসেবার চেয়ে পরামর্শই গুরুত্ব পায় বেশি। স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার যদিও স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করছে, তবে দেখা যাচ্ছে- সরকার যেভাবে চিন্তা করছে, বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটছে না। এর বড় প্রমাণ চুয়াডাঙ্গার ঘটনা।

এ অবস্থা বিরাজ করলে দেশের মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্ররা নানা ধরনের রোগ-ব্যাধির শিকার হওয়ার পাশপাশি ক্ষতি, দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হবে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে। চুয়াডাঙ্গায় ২০ রোগীর চোখ হারানোর ঘটনাকে হালকাভাবে না দেখে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত