spot_img
spot_img

সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, রাত ১১:১৪

প্রচ্ছদফিলিস্তিনে জাতিসংঘ ইইউ কাউকে মানছে না ইসরাইল
Array

ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ ইইউ কাউকে মানছে না ইসরাইল

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কাউকেই তোয়াক্কা করছে না ইসরাইল।

অবরুদ্ধ গাজায় ভূমি দিবসের বিক্ষোভে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘ ও ইইউ’র তদন্তের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। ইসরাইল বলেছে, এ বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না।

এদিকে ইসরাইলকে চাপে রাখতে আজ (মঙ্গলবার) জরুরি বৈঠক ডেকেছে আরব লীগ। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও মিডল ইস্ট আইয়ের।

ভূমি দিবস উপলক্ষে টানা ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রথমদিনে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও দেড় হাজার। গত শুক্রবার (৩০ মার্চ) ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামে গাজার ইসরাইল সীমান্তের ছয়টি স্থানে এ বিক্ষোভ হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস ও ইইউ’র শীর্ষ কূটনীতিক ফেদরিকা মোঘেরিনি এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ইসরাইলের বামপন্থী দল মেরেৎজ পার্টি একই আহ্বান জানায়।

ইসরাইলকে চাপে রাখতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লীগ। সৌদি আরবের নেতৃত্বে এ বৈঠক হবে।

ফিলিস্তিনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। রোববার ইসরাইলের সরকারি রেডিওতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লাইবারম্যান বলেন, এ বিষয়ে কোনো তদন্ত হবে না। তিনি বলেন, ‘নিজেদের অবস্থান থেকে সেনারা যা করার দরকার ছিল তাই করেছে। আমি মনে করি আমাদের সেনাদের প্রশংসা পাওয়া উচিত।’

আর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ৭৫০ জনের বেশি মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে হওয়া নিয়ে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অতিরঞ্জিত।

ইসরাইল সেনাদের ঠিক কী নির্দেশনা দিয়েছিল তা জানায়নি। কিন্তু সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিটার লার্নার বলেন, যে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তা অবশ্যই হুমকি।

মানুষ বেষ্টনীর কাছে এসে তা ভাঙার চেষ্টা করেছে। তারা অবকাঠামোর ক্ষতি করে গুলি করার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। গাজায় বিক্ষোভ দু’ভাগে বিভক্ত ছিল।

নারী ও শিশুরা ইসরাইলি সীমান্ত বেষ্টনী থেকে কয়েশ’ মিটার দূরে অবস্থান করে উৎসবমুখর পরিবেশে বিক্ষোভ করছিল। আর যুবকরা সীমান্ত বেষ্টনীর কাছে এসে সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ও জলন্ত পেট্রলের বোতল ছুড়ছিল।

১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বরাবরই নিজিদের ভূমিতে ফেরার দাবি করে আসছে। কিন্তু তারা ফিরলে ইহুদিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে আশঙ্কায় ইসরাইল সরকার তাদের ফিরতে বাধা দিচ্ছে।

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ভূমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছয় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত হয়। যে কারণে বিক্ষোভ শুরু করতে এ দিনটিকে বেছে নেয় ফিলিস্তিনিরা।

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত