Home ক্রীড়াঙ্গন টেন্ডুলকারও ম্লান হয়ে যেতেন দ্রাবিড়ের কাছে

টেন্ডুলকারও ম্লান হয়ে যেতেন দ্রাবিড়ের কাছে

টেন্ডুলকারও ম্লান হয়ে যেতেন দ্রাবিড়ের কাছে




রাহুল দ্রাবিড়ের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানই তাঁর ‘কিংবদন্তি’ নামের জন্য যথেষ্ট। ভারতীয় ক্রিকেটে এক সময় ‘দ্য ওয়াল’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটসম্যান তাঁর দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। দ্রাবিড় উইকেটে গেলেই বোলাররা প্রমাদ গুনতেন। তাঁরা জানতেন বড় কঠিন সময়ই অপেক্ষা করে আছে তাঁদের জন্য। ২০০১ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ইনিংসের কথাই বলুন কিংবা ১৯৯৯ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ১৫৩ রানের ইনিংসের কথাই বলুন, যেকোনো বিচারেই দ্রাবিড় ছিলেন অনন্য। তিনি যে সময় খেলেছেন তখন ভারতীয় ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকারের একক রাজত্ব। কিন্তু অনেক সময় টেন্ডুলকার ম্লান হয়ে যেতেন এ দুর্দান্ত ব্যাটসম্যানটির কাছে।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও হালের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা অন্তত তা-ই মনে করেন। রমিজের মতে, দলে টেন্ডুলকারের মতো অসম্ভব প্রতিভাবান এক তারকা থাকতেও দ্রাবিড় নিজেকে মেলে ধরেছেন স্বকীয়তা নিয়েই। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এটিই, ‘রাহুল দ্রাবিড় হয়তো শচীন টেন্ডুলকারের মতো ঈশ্বর-প্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী ছিল না। কিন্তু টেন্ডুলকারের মতো একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে একই দলে থেকে নিজের স্বকীয়তার প্রকাশ সহজ বিষয় নয়। ব্যাপারটা এমন যে আপনি নিজের শতভাগেরও ওপরেও যদি কিছু থাকে, সেটা দলকে দিচ্ছেন কিন্তু ওই প্রচেষ্টাটিও দলের সেরা ক্রিকেটারের সঙ্গে তুলনায় যথেষ্ট নয়। এটা যেকোনো ক্রিকেটারকেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিতে পারে।’

দ্রাবিড় কঠিন উইকেটের রাজা ছিলেন বলেই মনে করেন রমিজ, ‘কঠিন উইকেটে সে ছিল অনবদ্য। তাঁর টেকনিক, মৌলিক ব্যাপারগুলো ছিল পুরোপুরি ব্যাকরণ অনুসারী। দ্রাবিড়কে কৃতিত্বটা দিতেই হবে। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করার ব্যাপারে তাঁর মানসিকতা, চিন্তা-ভাবনা ছিল দারুণ।’ কঠিন সময়ে কোনো ক্রিকেটার দলকে কী দিচ্ছে সেটা অনেক বড় ব্যাপার বলেই মনে করেন সাবেক পাকিস্তানি তারকা, ‘দ্রাবিড়কে শ্রদ্ধা করতেই হবে। একজন ক্রিকেটারের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার হয় ড্রেসিং রুমে। দল যখন কঠিন পরিস্থিতিতে থাকে, তখন সেই ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স কেমন হয়, সেটার বিচারে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় দলকে টেনে তুলতে পারার সামর্থ্যই একজন ক্রিকেটারের শ্রেষ্ঠত্ব। অনেক সময় দলের বিপর্যয়ে সংগ্রাম করে করা ৩০ বা ৫০ রানই অনেক কিছু। এটা দ্রাবিড়ের কাছ থেকে নিয়মিতই দেখা গেছে।

রাহুল দ্রাবিড় ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছেন ১৬৪টি। ৫২.৩১ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ১৩ হাজার ২৮৮ রান। ৩৪৪ ওয়ানডেতে তিনি ১০ হাজার ৮৮৯ রান করেছেন ৩৯.১৬ গড়ে।







LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here