spot_img
spot_img

সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, সকাল ৯:২৫

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদশীর্ষ সংবাদসিরাজগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে টিআর কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে টিআর কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ


সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে। বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার না করে ও রাস্তার কাজ শেষ হলেও এখনও শ্রমিকদের টাকা না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে। টি.আর কর্মসূচির ১ম পর্যায়ের আওতায় বাজার ভদ্রঘাট জামে মসজিদ হতে নজরুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পের ব্যাপারে স্থানীয় রিক্সা ভ্যান মিস্ত্রি শামীম জানান, এই রাস্তায় ১৫ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে আর মাটি সমান করার জন্য ১৩ জন শ্রমিক কাজ করেছে।

প্রতিদিন প্রতিজন শ্রমিককে ৩০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে আর স্থানীয় বাজারে প্রতি ট্রাক মাটির মূল্য ১ হাজার ২০০ টাকা। এতে করে শ্রমিক ও ও মাটির মুল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি ও ভদ্রঘাট ইউপির সদস্য সাইদুর রহমান প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় না করে অর্ধেকের বেশি অর্থ আত্মসাত করার পায়তারা করছেন। ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য বরাদ্দের সব টাকা দিয়ে দুই বার মাটি ফেলা হয়েছে। কোন টাকা আত্মসাত করেন নাই বলে তিনি জানান।

এ দিকে টি.আর কর্মসূচির ২য় পর্যায়ের আওতায় চৈরগাঁতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্পের কাজ নিম্ন মানের বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭১ হাজার ২৮৪ টাকা। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য জান্নাতি খাতুন নিজে কাজ না করে স্থানীয় এক শিক্ষকের কাছে প্রকল্পটি বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রকল্পের সভাপতি নিজে কাজ না করে সেই শিক্ষকের সাথে যোগসাজসে এ প্রকল্প থেকে কিছু অর্থ লাভের আশায় হয়তো কাজ নিম্ন মানের হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য জান্নাতি খাতুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন না ধরলেও তার স্বামী আছের আলী ফোন ধরে জানান, জান্নাতি মেম্বার আর আমি সব সময় এক সাথেই থাকি। তাকে লাগবে না, আমি বললেই হবে। এই কাজটি আমার গ্রামের এক শিক্ষকের সাথে মিল করেই করা হচ্ছে। কাজ শেষে কিছু লাভ থাকলে দুইজনই অর্ধেক করে ভাগবাটোয়ারা করে নেবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে টি.আর কর্মসূচির ১ম পর্যায়ের আওতায় কুটিরচর পাকা রাস্তা হইতে ছোট পরিমলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্প নিম্ন মানের বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, এই রাস্তায় পরিমলের বাড়ী পর্যন্ত মাটি ফেলার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ১০/১২ ট্রাক মাটি এনে প্রতিদিন ৬ জন করে শ্রমিক দিয়ে তিনদিন কাজ করেছেন চেয়ারম্যান। এই প্রকল্পে ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজ করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা আর ৫৫ হাজার টাকা এই প্রকল্পের সভাপতি ও ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজ্জাম্মেল হক আত্মসাতের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক একই ইউনিয়নের একই কর্মসূচির আওতায় কাচারীপাড়া পাকা রাস্তা হইতে ধীরেন ডাক্তারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় তালের বীজ রোপন ও রাস্তা মেরামত প্রকল্পের প্রায় সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাত করেছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও ভদ্রঘাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মালেক খান। তিনি বলেন, যেহেতু আমি এই গ্রামের বাসিন্দা। আমাকে তো এই সড়কেই যাতায়াত করতে হয়। এই সড়কে কোন দিন কোন তালের বীজ রোপন করতে দেখি নাই। আর কয়েক মাস আগে এমপি মহোদয়ের বিশেষ বরাদ্দ থেকে কাবিখা প্রকল্প দিয়ে এই রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। রাস্তায় তো নতুন করে কোন কাজ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজ্জাম্মেল হক অভিযোগ দুটি অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাত করি নাই। বরাদ্দের শতভাগ অর্থ প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করা হয়েছে। এদিকে কাবিখা কর্মসূচির ১ম পর্যায়ের আওতায় কুটিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্পে অনিয়মের জোর চেষ্টা চালালেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঠিক নজরদারির কারণে এই প্রকল্পে দুর্নীতি করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি সুত্র জানায়, এই প্রকল্পে অনিয়ম করার জন্য প্রথম বার বিদ্যালয় মাঠে মাটি ফেলে কাজ শেষ হয়েছে মর্মে জানান ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম।

কিন্তু পরিদর্শনে দেখা যায় অর্ধেক কাজও হয়নি। পরে এই প্রকল্পের সভাপতি কে আবারও মাটি ফেলতে বলা হয়। পুনরায় কয়েক ট্রাক মাটি ফেলে কাজ শেষ হয়েছে বলে পিআইও অফিসকে জানান প্রকল্প সভাপতি। আবারও পরিদর্শন। এবারও কাজ নিম্ন মানের। পিআইও এর নির্দেশে তৃতীয় বারের মত বিদ্যালয় মাঠে মাটি ফেলে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম। এ ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, আমি এই প্রকল্পে কোন অনিয়মের চেষ্টা করি নাই। মাটি না পাওয়ার কারণে তিনবার মাটি ফেলা হয়েছে। এদিকে কাবিখা কর্মসূচির ২য় পর্যায়ের আওতায় ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নুরনগর পাকা রাস্তার মাথার নুর হোসেনের বাড়ীর নিকট হইতে সালাম মাস্টারের বাড়ী হইয়া চর দোগাছী মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা পুনঃ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ এবং প্রকল্পের সম্পূর্ণ খাদ্য শস্য উত্তোলন করে বিক্রি করেছে এই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার। কিন্তু এখনও শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করা হয়নি একই সাথে ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যরে এই রাস্তার কাজ নিম্ন মানের বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, অনেক দিন আগেই কাজ শেষ করেছি। কিন্তু মেম্বার সাহেব আমাদের পারিশ্রমিকের টাকা দিচ্ছেন না। টাকা চাইতে গেলে বলে এখনও টাকা পাইনি, পেলে দিব। আমরা স্ত্রী সন্তান দিয়ে খুব সমস্যায় দিনাতিপাত করছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ১২০ জন শ্রমিক দিয়ে সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চারদিন এই রাস্তার পাশের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। আর কাবিখা কর্মসূচির এই প্রকল্পে চালের বরাদ্দ ছিল সাড়ে ৯ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এতে প্রায় ১ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন এই প্রকল্পের সভাপতি। এই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, শ্রমিকদের টাকা দেয়া হয় নাই। টাকা না থাকলে দিব কিভাবে? টাকা পরে দিব। কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইদুল হক জানান, আমি গত ২৮ জুন থেকে এই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে কাজ নিম্ন মানের হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, পিআইও কে প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম শহিদুল্লাহ সবুজ জানান, পিআইও অফিসে জনবল সংকটের পাশাপাশি পিআইও বেশি সময় অসুস্থ থাকায় সঠিক কর্মকর্তা দ্বারা সঠিক সময়ে প্রকল্পগুলো পরিদর্শন না করায় প্রকল্পগুলোর কাজ নিম্ন মানের লক্ষ করা গেছে।

বার্তা প্রেরক
মোঃ ইয়াছিন কবির
কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত