spot_img
spot_img

বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, রাত ৯:৫৫

সর্বশেষ
বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার, দ্রুত মুক্তির দাবি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট পরিধানে উদ্বুদ্ধ করছে হাইওয়ে পুলিশ খুলনায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ বাগেরহাটে র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ব্যাংক ও পার্কভিউ হসপিটাল-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর মধ্যে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের বিল প্রদান’ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর
প্রচ্ছদশীর্ষ সংবাদরাজশাহীতে অনলাইনের টিকিটেও কালো বাজারিদের হাতে

রাজশাহীতে অনলাইনের টিকিটেও কালো বাজারিদের হাতে


করোনার মহামারির কারণে দীর্ঘ ৬৮ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে চলছে যাত্রীবাহী ট্রেন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে এখন শতভাগ টিকিট ছাড়া হচ্ছে অনলাইনে। কিন্তু সেখানেও হাত পড়ছে কালোবাজারির। রাজশাহীতে বছরের পর বছর যারা কালোবাজারি হিসেবে চিহ্নিত, তাদের কাছেই মিলছে ট্রেনের টিকিট। কিন্তু অনলাইনে ছাড়ার পাঁচ মিনিট পরই আর টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে এখন ছয়টি ট্রেন চলাচল শুরু করেছে। এগুলো হলো- ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা), ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’ (রাজশাহী-খুলনা), ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ (রাজশাহী-রাজবাড়ি), ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ (লালমনিরহাট-ঢাকা), ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ (খুলনা-ঢাকা) এবং ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ (পঞ্চগড়-ঢাকা)। অর্ধেক সিট ফাকা রেখে ট্রেনগুলো চলাচল করছে আগের সময়েই।

কিন্তু বরাবরের মতো এখনও ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ। টিকিট ছাড়ার তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ন্যানো সেকেন্ড দেরি করলেই কপালে টিকিট মিলছে না। অথচ রাজশাহীতে কালোবাজারিদের হাতে ঠিকই মিলছে টিকিট। চড়া দামে যাত্রীদের তাদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এমন দুই কালোবাজারিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

এরা হলেন- নগরীর শিরোইল মঠপুকুর এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে মাবুদ খান ওরফে রিমন (১৯) এবং শিরোইল স্টেশনপাড়া এলাকার মৃত ভাদু শেখের ছেলে লিয়াকত আলী (৫৩)। এদের মধ্যে লিয়াকত টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূলহোতা। দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি এই কারবারের সঙ্গে জড়িত। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার বাস্তুহারা এলাকা থেকে লিয়াকত ও রিমনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩টি টিকিট উদ্ধার করা হয়। টিকিটগুলোতে ৪৫টি আসন ছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
কিন্তু এখনও অনেকেই রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের মধ্যে আছেন শিমুল, শাহীন, বাপ্পি, দুলাল, রকি হাসান, মামুনুর রশিদ মাসুম, আহসান হাবীব সনি, মেহেদী হাসান শান্ত এনামুল হক প্রমুখ। অতিরিক্ত টাকা দিলেই এদের কাছে মেলে ট্রেনের টিকিট। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তাদের বাড়ি। তারা সব সময় শিরোইল ও স্টেশনের সামনেই ঘোরাফেরা করেন। রেলের কিছু যাত্রী এদের কাছ থেকে নিয়মিত টিকিট কেনেন অতিরিক্ত টাকায়। রেলের কোন কোন নিরাপত্তাকর্মীর কাছেও পাওয়া যায় টিকিট। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজস করেই তারা টিকিট সংগ্রহ করেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরাসরি যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি ছাড়াও কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করছেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রকাশ্যে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। কালোবাজারির টিকিট বিক্রির জন্য ফেসবুকে খোলা হয়েছে অনেক গ্রুপ ও পেইজ। এসব স্থানে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনের যাত্রার তারিখ ও সময় লিখে টিকিট থাকার কথা জানানো হচ্ছে। যারা ঠিক ৬টায় অনলাইনে ঢুকেও টিকিট পাচ্ছেন না তারা এসব টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গেল বছরের শেষের দিকে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারিদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগে সিলেট স্টেশনের ছয় বুকিং সহকারীসহ আটজনকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহীতে বদলি করা হয়। এরা রাজশাহীতে এসেও কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এখন কাউন্টার বন্ধ থাকায় বুকিং সহকারীদেরও কোন কাজ নেই। কিন্তু তারপরও কোন কোন বুকিং সহকারী টিকিট কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে কাজ করছেন।

এ কারণে অনলাইনেও টিকিটের আকাল। এখন তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে অনলাইনের টিকিট শেষ হয়ে যায়। ঈদুল আজহার আগে প্রথম অনলাইনে যেদিন আগাম টিকিট ছাড়া হয়েছিল সেদিন তো মাত্র চার সেকেন্ডে টিকিট শেষ হয়ে যায়। মাত্র ন্যানো সেকেন্ডের ব্যবধানে অনেকে পাননি কাক্সিক্ষত টিকেট। এ নিয়ে অনেকেই রেল সংক্রান্ত ফেসবুক গ্রুপগুলোতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি অনেকে ট্রেনের টিকেটে কারসাজি চলছে বলেও সরাসরি অভিযোগ করেন। কিন্তু সমস্যা এখনও কাটেনি।

টিকিট কালোবাজারির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ দাবি করেন, এখন সব টিকিট অনলাইনে। যিনি আগে ঢুকবেন, তিনি টিকিট পাবেন। তিনি নগর সংবাদ কো বলেন, গ্রাহকের এত চাপ যে অনলাইনে পাঁচ-ছয় মিনিট টিকিট থাকে। সেই সময়ের মধ্যেই যদি কালোবাজারিরা অতিরিক্ত টিকিট কিনতে পারেন, তাহলে এটাকে তাদের দক্ষতাই বলতে হবে।
তবে কালোবাজারিদের সঙ্গে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের তথ্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

বার্তা প্রেরক
মোস্তাফিজ মিশু
রাজশাহী প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত