spot_img
spot_img

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, সন্ধ্যা ৭:৫০

প্রচ্ছদশীর্ষ সংবাদগাংনী পৌরসভা নির্বাচন ২০ বছরে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র দু’বার করে বসলেও...

গাংনী পৌরসভা নির্বাচন ২০ বছরে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র দু’বার করে বসলেও বিএনপি ব্যার্থ


এ পর্যন্ত  গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে ২বার আওয়ামী লীগ বাকি দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ২১ জুন এ। পরে ২০০২ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়। গাংনী পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয় প্রয়াত আমিরুল ইসলাম। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোট থেকে প্রার্থী হন জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা তার প্রতীক ছিল মোমবাতি। সেই সময় কেন্দ্রীয় নির্দেশে ভোট বর্জণ করায় আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী ভোটে অংশ গ্রহন করেননি। জামায়াত বিএনপির শাসনামলে ভোট নিরপেক্ষ না হওয়ার আশংকার কারণ দেখিয়ে সেই সময় আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী ভোটে অংশ গ্রহন করেনি বলে দলটির বিভিন্ন নেতা কর্মীর কাছ থেকে জানা যায় তবে জামায়াত বিএনপি জোটের প্রার্থীকে পরাজিত করতে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলামের চাকা প্রতীকে মৌন সমর্থন দিয়ে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করেন অনেকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

পরে স্বতন্ত্র থেকে বিজয়লাভ করে আমিরুল ইসলাম বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন যদিও আওয়ামী লীগের নেতা শতবাঁধা পেরিয়েও ভোট প্রদান করেন বিএনপি জামায়াত প্রার্থী জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা যাতে জয়লাভ করতে না পারে । তার আগে ভোটের দুদিন আগে বিএনপি জামায়াতের পক্ষে একটি মিছিল বের করে আতংক সৃষ্টি করা হয় মোমবাতির প্রতিপক্ষদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করার জন্য সে সময় কয়েকটি দোকান ঘর ভাংচুর করা হয় বলে জানা যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহায়তা করেন তৎকালিন সংসদ সদস্য আঃ গণি। তার এই আর্থিক সহায়তা জামায়াত বিএনপি’র পক্ষে জনসমর্থন টানতে ব্যার্থ হয় এবং সেবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম গাংনী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৪ সালে আতাতায়ীদের বোমাঘাতে নিহত হন। পরে  ২০০৫ সালের উপ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মনোনীত প্রার্থী  আহম্মেদ আলী চাকা প্রতীকে বিজয় বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন।

এসময় বিএনপি জামায়াত মনোনীত প্রার্তী ছিলেন মোঃ রবিউল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন মেঘলা, গোলাম মোহাম্মদ মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ নজরুল ইসলাম বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংঘঠনিক সম্পাদক উল্লেখ যোগ্য। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে আবারো মেয়র আহম্মেদ আলী দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে জয়লাভ করেন এসময় নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছিলেন জামায়াত বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন বিএনপি নেতা গোলাম মেহেদি, হাজি মোঃ মহাসীন আলী, যুবলীগ নেতা মোঃ মোশাররফ হোসেন।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে গাংনী পৌরসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থীতা বাছায় নিয়ে নানান নাটকীয়তা শুরু হয়।  আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য ৫জনকে নিয়ে স্থানীয় আওয়মী লীগ নেতাদের মতামত নিতে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয় তাতে একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আশরাফুল ইসলাম নির্বাচিত হয়। এ ভোটের আয়োজন মেনে নিতে না পেরে সেসময় সাবেক মেয়র আহম্মেদ আলীসহ মজিরুল ইসলাম,, হাজি মোঃ মহাসীন আলি প্রত্য্ক্ষান করে। সে সময় প্রত্যাক্ষানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা বলেন জামায়াত বিএনপি পরিবারের সন্তানতে কৌশলে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করায় এ নির্বাচন পদ্ধাতি আমরা প্রত্যাক্ষান করছি। অবশ্য এ নির্বাচন করে মনোনয়নের বিষয়ে কোন ফল বয়ে নিয়ে আসেনি আশরাফুল ইসলামের পক্ষে। এ সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন সাবেক মেয়র আহম্মেদ আলী। তার এই মনোনয়ন পাওয়াতে দলের নেতা কর্মীরা ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেন এবং বলেন আমাদের নেত্রীর বিচক্ষনতায় কোন হাইব্রিড বিতর্কিত ব্যাক্তিকে মনোনয়ন না দিয়ে আওয়ামী লীগের যোগ্য ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করছি।

তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি’র সাথে গোপনে আতাত করে নৌকার প্রার্থী আহম্মেদ আলীকে পরাজিত করা হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এসময় বিএনপি প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর ইনসারুল ইসলাম ইন্সু মাত্র সাড়ে৭শ’ ভোট পান এতে ভোটারদের মাঝে নানান প্রশ্ন দেখা দেয়। বিএনপির মতো দলের একজন প্রার্থী এত কমভোট পাওয়ার কথা নয়। এদিকে অন্য সময়ের তুলোনায় সাবেক মেয়র আহম্মেদ আলী অনেক বেশি ভোট পান তারপরও জয়লাভ করতে পারেননি। স্থানীয় নেতা কর্মীদের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জামায়াত বিএনপি ও স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ষড়যন্ত্র আহম্মেদ আলীর পরাজয়ের কারণ। ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে নির্বাচন পরবর্তি সময় মেয়র আশরাফুল ইসলামকে কিছু আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমেও এর প্রচারণা দেখা যায়। তাতে দেখা যায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত আশরাফুল ইসলামের আনন্দ মিছিলে যোগদান করেন।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আশরাফুল ইসলাম নির্বাচিত হলে যে চারবার নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হয় তাতে গাংনীতে এখনো বিএনপি থেকে মেয়রের স্বাদ পাইনি দুইবার স্বতন্ত্র আর দুইবার আওয়ামী লীগ। বর্তমানে আসন্ন জানুয়ারীতে দ্বিতীয় দফার পৌর নির্বাচনে গাংনী থেকে শুধু মাত্র আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন ৮জন বিএনপির এপর্যন্ত ৪জন জাতীয় পার্টি এরশাদ, জাতীয় পার্টি ( জেপি), জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজিপি) সবদল থেকে এখন পর্যন্ত একজন করে প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এবারে গাংনী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের দলীয়হাইকমান্ড থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এর আগে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে এবং তাদের জন্য দলীয় মনোনয়নের দরজা একেবারেই বন্ধ।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বাধিক পঠিত